Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান

admin • 10 Feb 2026, 07:13 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান

প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে আসার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তিত বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনকে আগের সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ ছিল সাধারণ মানুষের। সেই প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, আসন্ন এই নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জয়ী হতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি এগিয়ে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জনমত জরিপগুলো সঠিক হলে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই মৃদুভাষী নেতার রাজনৈতিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসবে। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটক থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ছেড়ে লন্ডনে যান তারেক রহমান।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। সে সময় রাজধানীতে তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

অন্যদিকে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা এখনো ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তারেক রহমানের মা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

রয়টার্স জানায়, যেখানে শেখ হাসিনা ছিলেন ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র, সেখানে তারেক রহমান বাংলাদেশকে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল না রেখে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ, পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে খেলনা ও চামড়াজাত শিল্পের উন্নয়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই দফা বা ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা।

ঢাকায় অবতরণের পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন প্রসঙ্গে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি জানি না, ঢাকায় নামার পর প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটে গেছে।’ তিনি জানান, তার মেয়ে জাইমা রহমানও বাবার পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

রাজনৈতিক অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তারেক রহমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও পরে ব্যবসায় যুক্ত হন। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। এতে ভালো কিছু আসে না। এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’

শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতি ও ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় অনুপস্থিতিতেই দণ্ডিত হয়েছিলেন তারেক রহমান। তবে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি সব মামলা থেকে খালাস পান।

নির্বাসিত জীবনে দলের বহু নেতাকর্মীর গ্রেপ্তার, নিখোঁজ হওয়া ও দলীয় কার্যালয় বন্ধের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। দেশে ফিরে এসে তার বক্তব্যে আক্রমণাত্মক সুর পরিহার করে সংযম ও পুনর্মিলনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলছেন। বিএনপির ভেতরে তার প্রভাব ও নেতৃত্ব সুদৃঢ় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও টিকিয়ে রাখাই আমার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব এবং দেশ পুনর্গঠন করা যায়।’

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।