Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ

admin • 15 May 2025, 08:16 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চৌরঙ্গী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মিলনের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে ‘যৌন হেনস্তা ও কুপ্রস্তাব’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপবৃত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার কথা বলে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার।

 

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছাত্রীর মা।

 

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ১২ মে দুপুরে ইংরেজি ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক উম্মত আলী ছাত্রীকে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে যান এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে রাখেন। এরপর প্রধান শিক্ষক তাকে মোবাইল কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে হাত ধরেন, পরে মুখে ও হাতে চুমু দেন। একপর্যায়ে বুকে হাত দিয়ে তাকে জাপটে ধরে জানতে চান, তার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে কি না। এমনকি প্রস্রাব সংগ্রহ করে পরদিন সকালে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে জমা দিতে বলেন।

 

এই ঘটনার পর ছাত্রী আতঙ্কে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

 

ঘটনার শিকার ছাত্রীর মা বলেন, ‘মেয়ে সেদিন বাড়ি এসে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। জিজ্ঞেস করলে বলে মিলন স্যার উপবৃত্তির কথা বলে লাইব্রেরিতে ডেকে হাতে মুখে চুমু দিয়ে জাপটায়ে ধরেছে। কাল (১৩ মে) আটটায় প্রসাব নিয়ে দিতে বলেছে। বিষয়টি কাউকে বলতে নিষেধ করেছে। এরপর থেকে ভয়ে মেয়ে বিদ্যালয়ে যায় না।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে মিলন মাস্টার মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে। কাউকে না বলার জন্য বাড়িতে লোক পাঠাচ্ছে। বসে মিলতাল করার জন্য চাপ দিচ্ছে। আমি বিচারের আশায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

 

ছাত্রীর চাচা বলেন, ‘বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিলন মাস্টার বার বার ফোনে হুমকি দিচ্ছে। মাপ চাচ্ছে। এসব কথা ফোনে রেকর্ড আছে।’

 

ঘটনার শিকার ওই ছাত্রী বলে, ‘উপবৃত্তির কথা বলে উম্মত স্যার ডেকে নিয়ে যায়। আর মিলন স্যার খারাপ কিছু করেছে। ভয়ে স্কুলে যাচ্ছি না এই কয়দিন। আমি বিচার চাই।’ তার ভাষ্য, অনেক মেয়ের সঙ্গেই ওই স্যার এমন আচরণ করেছেন।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মিলন বলেন, ‘একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছাত্রীকে ডেকেছিলাম শাসন করার জন্য। খারাপ কিছু করিনি। ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ছড়াচ্ছে।’ তার ভাষ্য, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।