দেশের বেসরকারি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবগুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসারকে নিজ হাতে স্বাক্ষর করেই রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় এমন তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের জন্য আবেদনে যে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ, রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, রিপোর্টে তারই নিজ হাতে স্বাক্ষর থাকতে হবে। অন্য কোনো চিকিৎসকের স্বাক্ষর বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি (অটো জেনারেটেড) রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা থেকে নমুনা সংগ্রহ (স্যাম্পল কালেকশন) করা যাবে না। অটো জেনারেটেড রিপোর্ট যাচাই করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষরসহ রিপোর্ট দিতে হবে।
এ ছাড়া রিপোর্টে স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকদের অবশ্যই বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধিত মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। প্যাথলজি ল্যাবের সব যন্ত্রপাতির নিয়মিত ক্যালিব্রেশন নিশ্চিত করতে হবে এবং ল্যাব পরীক্ষার জন্য রেজিস্টার সংরক্ষণ ও রেকর্ড মেইনটেইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশনায় ল্যাব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা শুধুমাত্র বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশে মহাপরিচালকের অনুমোদন রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভুয়া রিপোর্ট, অনিয়ম ও রোগী হয়রানি কমবে এবং প্যাথলজিক্যাল সেবার মান উন্নত হবে।





