দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড় ) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির সুমন আলীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করার দুই মাস পার হলেও এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপরোক্ত তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করে নাজিরের পক্ষে কার্যত অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এতে ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
এর আগে জানুয়ারী মাসের ২২ ও ২৫ তারিখে ভবেন্দ্রনাথ রায়, বিপুল সরকার ও রুবেল সরকার জেলা প্রশাসকের নিকট পৃথক তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন। এইদিকে অভিযোগ তুলে নিতে ভবেন্দ্রনাথকে বিভিন্ন মাধ্যমে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন সুমন আলী। এমনকি ঘুষ হিসেবে নেওয়া টাকাও ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। আশ্বাস দেওয়া হয় পুনরায় খারিজের।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভবেন্দ্রনাথ রায় গত বছর ১৩ জুন এসিল্যাণ্ড অফিসে খারিজ বাতিলের আবেদন করলেও দীর্ঘ দিন নোটিশ পাননি। পরে ৫ সেপ্টেম্বর নোটিশ পেলেও পরবর্তী তিনটি ভিন্ন দিনে হাজিরার জন্য উপস্থিত হলেও হাজিরা দিতে দেওয়া হয়নি। এরমধ্যে নাজির সুমন আলী বিশ হাজার টাকা দাবি করলে পাঁচ হাজার টাকা দেন ভবেন্দ্রনাথ। সর্বশেষ ১৭ অক্টোবর ভূমি কর্মকর্তা সকল কাগজপত্র যাচাইকালীন সময়ে দেখেন যে জমি বিবাদী আয়নাল হকের দখলে নেই। ভুক্তভোগী আরো অভিযোগ করেন, নাজিরের পরামর্শে ১৮ অক্টোবর আয়নাল হক খারিজ বৈধ করার জন্য জমিতে কলা গাছ রোপণ করেন। টাকা দিয়েও কাজ না হওয়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দেন ভবেন্দ্রনাথ।
এইদিকে বিপুল সরকার ও রুবেল সরকার অভিযোগ করেন, তাদের ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় জমি তাদের অগোচরে মিন্টু রাম রায় ও প্রদীপ কুমার রায়ের নামে কৌশলে খারিজ করে দিয়েছেন নাজির সুমন আলী। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুনরায় ভুক্তভোগীদের নামে জমি খারিজ করে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত নাজির।
এইদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নাজির সুমন আলী বলেন, আমিতো খারিজ করার এখতিয়ার রাখি না। এসিল্যাণ্ড স্যার ডকুমেন্ট দেখে জমি খারিজ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শরীফুল আলম বলেন, এই বিষয়ে অফিসিয়ালি কোন চিঠি পাইনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল কাদের জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ, কে, এম রায়হানুর রহমান বলেন, বক্তব্য নিতে হলে অফিসে এসে নিতে হবে। তাৎক্ষণিক প্রতিবেদক বিষয়টির প্রতিবাদ জানালে তিনি জানান, ঈদের পরই তদন্ত কার্যক্রম শেষ হবে।





