ইফতারে নিম্ন মানের খাবার (পচা বেগুনি) পরিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটে ‘হোটেল সারেং’ থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে পচা বেগুনি পরিবেশন করা হয়। পরে তিনি অভিযোগ জানাতে গেলে হোটেল মালিকসহ কর্মচারীরা ওই শিক্ষার্থীর প্রতি ক্ষিপ্ত হন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের আটকিয়ে অতর্কিত হামলা করে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
এসময় তাদের বাঁচাতে সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালায় হোটেলের স্টাফ ও স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরাও সারেং হোটেলে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে। দফায় দফায় এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন মেস ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলেও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে। এসময় হলের বেশকিছু জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, পরিবেশও শান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি তৎপর রয়েছে।
ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অরিত সরকার বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংঘর্ষের সূচনা হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুয়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। হোটেল নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটি দেখার দায়িত্ব আমার। আমরা নিজেরা যাতে নিজেদের হাতে আইন না তুলে নেই। এই ধরনের ইস্যুতে আমার নিজের মনিটরিং থাকবে। কোনো অভিযোগ থাকলে আমাকে ফোনে জানাবেন, আমি ব্যবস্থা নিব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় জনগণের সবাইকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।





