জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক এবং ওই চেয়ারম্যান পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেছে।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রচারণার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ২৬ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে মাহমুদুল আলম বাবুকে বলতে শোনা যায়, এই সাধুরপাড়া মানে এই বকশীগঞ্জ থানার সাতটি ইউনিয়ন তার মধ্যে আমার বকশীগঞ্জে যেহেতু বড় একটি কাজ করে দিয়েছে, আগে কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারও যেন ওর চেয়ে বেশি কিছু করে নিতে পারি এবং ১২ তারিখে সবাই সুষ্ঠভাবে আপনারা সকাল সকাল ধানের শীষে ভোটটা দিবেন। ভালো থাকেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
বাবু চেয়ারম্যানের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিহত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের পরিবারসহ জেলা জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মাহমুদুল আলম বাবু বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক (বহিষ্কৃত) চেয়ারম্যান এবং সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ–দেওয়ানগঞ্জ) আসনের একটি কেন্দ্রে গিয়ে তাকে ভোট চাইতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজীউর রহমান মোল্লা বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। যাদের বিরুদ্ধে খুনের মতো গুরুতর মামলা রয়েছে, তাদের স্থান বিএনপিতে হবে না। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে নিজেকে রক্ষা করতে ধানের শীষের প্রচারণা চালালে তার দায় দল নেবে না। অপরাধীর পরিচয় সে অপরাধীই।
বকশীগঞ্জ গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহাম্মেদ সুমন বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, খুনের মামলার আসামির এমন প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচারণায় তারা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। যিনি সারাজীবন নৌকার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তিনি আজ পিঠ বাঁচাতে ধানের শীষের স্লোগান দিচ্ছেন। এটি বিচার থেকে বাঁচার অপচেষ্টা মাত্র।
সাংবাদিক নাদিমের মেয়ে রাব্বিলাতুল জান্নাত বলেন, আমরা শঙ্কিত যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও বাবার খুনিদের বিচার যেন নিশ্চিত হয়, এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম ২০২৩ সালের ১৪ জুন পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের গরুহাটি এলাকায় হামলার শিকার হন। হামলার পর দিন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যার তিনদিন পর ২০২৩ সালের ১৭ জুন নিহত নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান করে ২২ জনকে আসামি করা হয়। ওইদিনই পঞ্চগড় থেকে মাহমুদুল আলম বাবুকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা কারাগারে ছিলেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই মাহমুদুল আলম বাবু আত্মগোপনে ছিলেন।





