দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে টাকার জন্য শরিফ ইসলাম(২৩) ও তপু রায়(২২) নামে দুই যুবককে জিম্মি করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নেপাল রায় নামে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
রবিবার ( ২৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক দুইটার সময় উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ পাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী শরিফ ইসলামের বাবা মোঃ বাবুল ইসলাম বাদী হয়ে পল্লী চিকিৎসক নেপাল রায়কে প্রধান করে চার জনের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দাখিল করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শরিফুল ও তপু রায় শনিবার(২৭ এপ্রিল) রাত দশটার সময় রাতের খাবার খেয়ে মালচন্ডি মহামিলন আশ্রমে কীর্তন শুনতে যায়। রাত আনুমানিক দুইটার সময় কীর্তন শেষে বাসায় ফিরছিলেন তারা। ভুক্তভোগী শরিফ ইসলাম তপুকে তার বাড়ির সামনে এগিয়ে দিতে যাওয়ার সময় সোনাহার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক নেপাল রায় এবং তার সহযোগী সহদেব রায়, শুভ রায় তাদের পথ আটকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। বুকের মধ্যে ছুরি ঠেকিয়ে আরেক অভিযুক্ত কুসুম রানীর বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে আবারো বেধরক মারপিট করা হয় এবং বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়। ভুক্তভোগী শরিফ ইসলাম এবং তপু রায়কে বলা হয় যদি তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দেয়া না হয় তাহলে তাদের মেরে ফেলা হবে।
ভুক্তভোগী শরিফ ইসলাম মুঠোফোনে তার বাবা মোঃ বাবুল ইসলামকে টাকার কথা বলে এবং তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে বলে। ভুক্তভোগী শরিফের বাবা বাবুল ইসলাম দ্রুত টাকা সংগ্রহ করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে অভিযুক্ত কুসুমের বাসায় গিয়ে দেখতে পায় শরিফ ইসলাম ও তপু রায়কে মারপিট করে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। শরিফ ইসলামের বাবা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী শরিফ ইসলামের বাবা মোঃ বাবুল ইসলাম বলেন,"নেপাল ডাক্তার ও তার সহযোগীরা মিলে আমার ছেলেকে জিম্মি করে অমানবিক নির্যাতন করেছে। তারা এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
এবিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম বলেন, "মারধরের ঘটনায় এক ভুক্তভোগীর বাবা এজাহার দিয়েছেন। তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"





