জামালপুরের মেলান্দহে মোবাইল কিনে না দেওয়ায় পরিবারের উপর অভিমানে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় আইয়ুব আলী (১৮) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। চলে যাওয়ার ৩ মাস পেরোলেও এখনো খোঁজ মিলেনি সেই শিক্ষার্থী।
নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থী (১৮) উপজেলার চরবানীপাকুরিয়া ইউনিয়নের মহিরামকুল এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। সে কোনা মালঞ্চ দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর দাখিল পাস করে জামালপুর আলিম মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল।
নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থী বন্ধু আত্মীয়স্বজন বাড়ীসহ জেলায় জেলায় খোঁজে না পেয়ে বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) রাতে মেলান্দহ থানায় ডিজি করেছে নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর মা আফরোজা খাতুন। পরিবার এতদিন অপেক্ষা করছেন জনৈক (তান্ত্রিক) কবিরাজ ওই ছেলেকে উদ্ধার করে দিবেন এই আশায়।
জানা যায়, সহপাঠী কয়েকজন মোবাইল কিনলে শিক্ষার্থী আইয়ুবও পরিবারের কাছে মোবাইল কিনে চায়। অভাবের সংসার, কয়েকমাস পরে মোবাইল কিনে দিতে চাই তার পরিবার। এ নিয়ে পরিবারের সাথে ঝগড়া করে ঘুমাতে যায় আইয়ুব। পরেরদিন ভোর সকালে ফজর নামায পর আইয়ুবের মা ঘরে গিয়ে দেখে সে নেই। পরবর্তীতে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার পরিবার।
একপর্যায়ে কোথাও খোঁজ পাওয়া না গেলে সবাই ভেবে নেন হয়তো তিনি অভিমান করে কোনো আত্মীয়স্বজনের বাড়ি গেছেন। অভিমান ভাঙলে বাড়িতে চলে আসবেন। কিন্তু ঘটনার ৩ মাস অতিবাহিত হলেও আইয়ুব আজও বাড়ি ফিরে আসেননি।
তার নিখোঁজের পর পরিবারের লোকজন আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান চালিয়েও শেষ পর্যন্ত না পেয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঘুরছেন ফকিরের (তান্ত্রিক) বাড়ি বাড়ি। ফকির নাকি তন্ত্র-মন্ত্রের বলে নিখোঁজ ছালেহাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনবেন এ আশায় অপেক্ষা করছেন স্বজনরা।
নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর মা আফরোজা খাতুন বলেন, এর আগেও বন্ধুদের সাথে না বলে ঘুরতে গেছিলো। ১০ দিন পর আসছে এবারো ভেবেছি চলেই আসবে। আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজেতেছি ওর বাবা ঢাকায়, চট্টগ্রামে গিয়ে খোঁজতেছে পায়তেছে না। ছেলেটা প্রতিবন্ধী বাম হাতের কনুই পর্যন্ত নেই।
এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান বলেন, নিখোঁজের তিনমাস পর নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর পরিবার একটি জিডি করেছে। আরও আগে থানায় জানালে ভালো হত। এ ব্যাপারে আমাদের আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান।
উল্লেখ, নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থী বাম হাতের কনুই পর্যন্ত নেই। যদি কেউ অজ্ঞাত এমন কাউকে কোথাও দেখতে পান তাহলে এই মোবাইল- ০১৯২৯৮১৪৫৮৬ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হলো। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইয়ুবের খোঁজ অব্যাহত রয়েছে।





