Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

টাকা আদায়ের খাত কাগজ-কলমে,বাস্তবে নেই !

admin • 07 Nov 2024, 07:07 AM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
টাকা আদায়ের খাত কাগজ-কলমে,বাস্তবে নেই !

কুষ্টিয়ার কুমারখালী সরকারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাতীয়করণ ঘোষনা করেন। সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম অবসরে যাওয়ার পর থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মোদক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন।

 

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, সন্তোষ কুমার মোদক দ্বায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকেই নানা রকম অনিয়ম করতে শুরু করেন। যেসব বাবদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে চৌদ্দশত পনেরো টাকা ফি আদায় করা হয় মুদ্রণ-১৭৫ টাকা, ম্যাগাজিন-৬০ টাকা, ক্রীড়া-১০০ টাকা, সাংস্কৃতি বিতর্ক ও বিভিন্ন দিবস-৭৫ টাকা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পূজা-মিলাদ-৭৫ টাকা, লাইব্রেরী-৪০টাকা, কল্যাণ তহবিল ও দরিদ্র তহবিল-২৫টাকা, কম্পিউটার-২০ টাকা, কৃষি ও বাগান-৩০ টাকা, ল্যাব্রেটরী ও গবেষণাগার-৪০টাকা, কমন রুম-৩০টাকা, পরিচয় পত্র-৫০ টাকা, নিরাপত্তা ও নৈশ প্রহরী-৩০ টাকা, নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-১০০ টাকা, মসজিদ-৫০ টাকা, চিকিৎসা সেবা-২০ টাকা, বিবিধ ও আনুসাংগীক-২০০ টাকা, উল্লেখিত এসব টাকার যোগ ফল এগারো শত বিশ টাকা কিন্তু আদায় করা হয় চৌদ্দ শত পনেরো টাকা বাকি দুই শত পচানব্বই টাকার হিসেব কোথায়? এসব হিসেব কাগজ কলমে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার মোদক ১০ই মার্চ ২০২৩ সালে যোগদান করলেও মুদ্রণের তেমন কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

ম্যাগাজিন বাবদ ৬০ টাকা গ্রহণ করলেও  ২০১৮ সালে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ হয় তারপরে আর কোন ম্যাগাজিন প্রকাশ হয়নি। ক্রীড়া বাবদ টাকা নিলেও বিদ্যালয়ে খেলাধুলার তেমন কোন কার্যক্রম নেই। সাংস্কৃতি ও বিতর্কেরও কোন উদ্যোগ নেই। মিলাদ পূজাও করা হয়না বিদ্যালয়ে। কৃষি ও বাগান না থাকলেও নেওয়া হয় টাকা। কমন রুমের অস্তিত্ব নেই। মসজিদ বাবদ টাকা নিলেও নেই মসজিদ। বিবিধ ও আনুসাংগীক বাবদ দুই শত টাকা কেন নেওয়া হয় সে প্রশ্নেরও উত্তর নেই প্রধান শিক্ষকের।

 

যেসব খাত বাবদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয় সে বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন। পরিচয়পত্র গতবার হয়েছে এবার দেওয়া হয়নি। নির্দিষ্টভাবে গানের কোন কক্ষ নেই তবে কোন শিক্ষক আসলে একটি কক্ষ দেওয়া হয়। ম্যাগাজিন ২০১৮ সালে সর্বশেষ প্রকাশিত হয়েছে আরেকটি প্রকাশনার কাজ চলছে।

 

মসজিদ বা নামাজের নির্দিষ্ট কোন কক্ষ নেই তবে একটি কক্ষে অস্থায়ীভাবে নামাজ পড়া হয় সেখানে পাটি স্যান্ডেল ক্রয় করা হয়। কৃষি বাগানের বিষয়ে তিনি বলেন আমাদের কোন জমি না থাকায় বাগান করতে পারিনি এই টাকা দিয়ে আগাছা পরিষ্কারের কাজ করা হয়।

 

আদায়কৃত অর্থের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন খরচ খরচা বাদে সব টাকা ব্যাংকে রাখা হয় তবে এই মুহুর্তে হিসেব দিতে পারবো না বছর শেষে হিসেব দেখা হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মৌখিকভাবে অবগত করা হলেও তিনি আজ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নাই। বর্তমানে অত্র বিদ্যালয়ে সেশন চার্জ বাবদ চৌদ্দ শত পনেরো টাকা গ্রহন করা হচ্ছে, যা সরকারী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যায় পরিপত্রের পরিপন্থি।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অনেক আগে মৌখিকভাবে একজন জানিয়েছিলেন তবে লিখিতভাবে কেউ কোন অভিযোগ দিলে অবশ্যই সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।