জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কিশোরী নববধূ রিথি আক্তার হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নববধূর সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের বেতমারী এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা কিশোরী নববধূ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গোলাম রাব্বানীসহ সকল আসামিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
এ বিক্ষোভ মিছিলে চরপলিশা জাহানারা লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহন করেন দোষীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান দেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এর আগে ঘটনার দিন বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে নিহতের স্বামীকে প্রধান করে শশুর শাশুড়ী সহ ওই পরিবারের ৫জনের নামে মামলা দায়ের করে। মামলার চার দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত রিথি আক্তার (১৫) মেলান্দহের চরপলিশা উত্তরপাড়ার তালতলা এলাকার আল মামুনের ছেলো গোলাম রাব্বীর স্ত্রী ও বেতমারী এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে চরপলিশা জাহানারা লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
প্রসঙ্গত, নিহত রিথি ও তাঁর স্বামী গোলাম রব্বানী চরপলিশা জাহানারা লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এক সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক থেকে চলতি বছরের মে মাসে তাঁদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে থেকে রিথি বেশি সময় বাবার বাড়িতেই থাকতেন।
ছবি: জামালপুরের মেলান্দহে গৃহবধূ রিথি হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে স্বজন ও সহপাঠীরা।-ছবি প্রতিনিধি
গত বুধবার (২০সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে রিথি বেতমারী তাঁর বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর সাথে শ্বশুর বাড়িতে আসেন। ওই দিন বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ঘরের মেঝেতে রিথির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। তবে ওই নববধূ রিথিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে তার স্বামী গোলাম রাব্বী, শশুর আল মামুনসহ ওই পরিবারের পাঁচজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেস্টা চলছে।





