Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

জামালপুরে উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে জেসমিন প্রকল্প বিষয়ক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা

admin • 18 Jun 2026, 05:51 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
জামালপুরে উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে জেসমিন প্রকল্প বিষয়ক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা

জামালপুরে জেন্ডার ইনক্লুসিভ মার্কেট সিস্টেমস ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (GESMIN) প্রকল্পের সেরা চর্চা (Best Practices) বিষয়ক একটি মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উন্নয়ন সংঘের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ডিটিআরসি (DTRC)-তে এ সভার আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে জামালপুর পৌর শহরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় উন্নয়ন সংঘের বিটিআরসি হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন, উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ মাহমুদ ইবনে হুদা। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের জেসমিন প্রকল্পের ম্যানেজার অসীম চ্যাটার্জি। উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব জামালপুরের সভাপতি মুখলেছুর রহমান লিখন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক মো. মেহেরউল্লাহ এবং ইসলামপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ লিটন প্রমুখ।

 

সভায় জেসমিন প্রকল্পের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন, জেন্ডার স্পেশালিস্ট নাহিদা ইসলাম ও মনিটরিং ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন প্রকাশ চন্দ্র। সভায় স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের ৩০ জন সাংবাদিকসহ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সংঘের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন, শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে ভ্যালু চেইন কার্যক্রম, জেন্ডার সমতা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে প্রকল্পের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

উল্লেখ্য, GESMIN প্রকল্প ২০২৩ সাল থেকে জামালপুর জেলার সদর, মেলান্দহ, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ান এনজিও কো-অপারেশন প্রোগ্রাম (ANCP)-এর মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং উন্নয়ন সংঘের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমানে ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রকল্পের মিড-টার্ম মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভ্যালু চেইন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের আয় গড়ে ৫৭.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

পাশাপাশি সুষম খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার হার ৩৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি চর্চায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে—৫টি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার হার ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ ১০.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

   

সভায় আরও জানানো হয়, ৬০টি ‘স্মার্ট কিশোরী ক্লাব’-এর প্রায় ১৫০০ কিশোরী সদস্য কৃষিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগবালাই শনাক্তকরণসহ পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া শিশু সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দূরীকরণে ওয়ার্ল্ড ভিশনের বৈশ্বিক ক্যাম্পেইন “ENOUGH”-এর লক্ষ্য ও কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু অপুষ্টি, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ হ্রাস করে পুষ্টিগত উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।