Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

ছেলেকে চোর সন্দেহে মা-বাবাকে মারধর, অপমানে মায়ের ‘আত্মহত্যা’

admin • 26 Mar 2026, 07:54 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
ছেলেকে চোর সন্দেহে মা-বাবাকে মারধর, অপমানে মায়ের ‘আত্মহত্যা’

জামালপুর সদর উপজেলায় গরু চুরির সন্দেহে এক যুবককে ধরতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তাঁর বাবা-মাকে তুলে এনে শালিসে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনার অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে জোসনা বানু নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে বিষয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান। এর আগে সকালে উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জোসনা বানু ওই এলাকার সুরুজ্জামানের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে তিনটার দিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নায়েব আলীর এক স্বজনের বাড়ির গোয়ালঘরে শব্দ হলে চুরির সন্দেহ তৈরি হয়। এ সময় স্থানীয়রা ধারণা করেন, সুজন মিয়া, তোতা মিয়া ও সোহেল রানা সেখানে চুরির উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। পরে খবর পেয়ে ইউপি সদস্য নায়েব আলী ঘটনাস্থলে যান।

এরপর সুজন মিয়াকে ধরতে তাঁর বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বাধা দিলে সুজনের মা জোসনা বানুকে মারধর করা হয় এবং পরে তাঁর বাবা সুরুজ আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একই রাতে তোতা মিয়াকেও ধরে আনা হয়।

রাতে বসা শালিস বৈঠকের সিদ্ধান্তে তাঁদের নায়েব আলীর বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরদিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সোহেল রানাকে ডেকে এনে অন্য দুজনের সঙ্গে বসানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে তিনজনকে একসঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

এ সময় জোসনা বানুকেও সেখানে ডেকে এনে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে দৌড়ে বাড়ি ফিরে যান। পরে বাড়িতে গিয়ে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরবর্তীতে নায়েব আলী ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা আটক তিনজনকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে রাখেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার আলী বলেন, চুরির অভিযোগে ছেলেকে না পেয়ে মা-বাবাকে ধরে এনে মারধর করা হয়েছে। অপমান সইতে না পেরে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শালিসে আহত জিরাতন বেগম বলেন, আমার ছেলে ঘরে ছিল। সেখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমি মাটিতে পড়ে যাই। পরে তারাই পানি দেয়। আমার ছেলে নির্দোষ, আমি এর বিচার চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য নায়েব আলী। তিনি বলেন, প্রতিবেশীর অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। অভিযুক্তদের ডাকা হলে সোহেল রানা উপস্থিত হয়নি। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা খারাপ আচরণ করলে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। পরে শুনেছি, তার মা মারা গেছেন।

জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।