Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

চাঁদপুরে আবারও দেখা মিলল ভয়ংকর রাসেল ভাইপারের

admin • 29 May 2024, 04:38 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
চাঁদপুরে আবারও দেখা মিলল ভয়ংকর রাসেল ভাইপারের

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নে আবারও বিষধর সাপ রাসেল ভাইপারের (চন্দ্রবোড়া) দেখা মিলেছে। মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে ওই ইউনিয়নের নয়ানগর বটতলা এলাকা থেকে সাপটিকে ধরা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) একই ইউনিয়নের বোরচর এলাকা থেকে একই প্রজাতির আরেকটি সাপ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, বেশ কয়েকদিন ধরে উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম চরাঞ্চল বোরচরে সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। কিন্তু এবার পূর্ব পাড়ে দেখা মিলল রাসেলস ভাইপার সাপের।

তারা আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুরে এখলাসপুর নয়ানগর বটতলা এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে রাসেলস ভাইপার সাপটিকে দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন মিয়াজি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে মেঘনা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় সাপটি বালুর মাঠে চলে আসে। সাপটি যখন চলে যাচ্ছিল তখন আমি লোকজনকে ডাক দিলে তারা এসে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, আমি খবরটি পেয়েছি। নয়ানগর বটতলা এলাকায় একটি রাসেলস ভাইপার সাপ ধরার পর মেরে ফেলা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় সাপ ধরা পড়ছে। আমরা এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রবোড়া বা উলু বোড়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Daboia russelii) ভাইপারিডি পরিবারভুক্ত একটি অন্যতম বিষধর সাপ। এই সাপ সবচেয়ে বেশি বিষাক্ত ও এর অসহিষ্ণু ব্যবহার ও লম্বা বহির্গামী (Solenoglyphous) বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণে অনেক দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্যু হয় ।

তিনি আরও বলেন, সাপ সাধারণত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে চন্দ্রবোড়া সাপ ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা বছরের যে কোনো সময় প্রজনন করে। একটি স্ত্রী সাপ গর্ভধারণ শেষে ২০ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে কোনো কোনো চন্দ্রবোড়া সাপের ৮০টি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়ার রেকর্ড আছে।

এটি বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে পাওয়া গেল ও মতলব উত্তর পদ্মা ও মেঘনা নদী অববাহিকা অবস্থিত হওয়ায় এ সাপটি এখন পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে চর অঞ্চলের মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বলে জানান এই চিকিৎসক।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।