Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

গোপালগঞ্জে নৌকা ও ঈগল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২০

admin • 29 Dec 2023, 07:15 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে নৌকা ও ঈগল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২০

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ-১ আসনের মুকসুদপুরে নৌকা ও ঈগল প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন। এসময় ৩টি দোকান ও ৮টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের শুয়াশুর গ্রামে এই সংঘর্ষ হয়।

 

এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানীর একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল প্রতীক) মো. কাবির মিয়ার সমর্থক লাকিয়া বেগম নামের এক নারী মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুল সংঘর্ষের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

 

আহতরা হলেন, রুবেল শেখ (৩৫), ফিরোজ শেখ (৬৫), বিপ্লব শেখ (৩০), শামিম শেখ (৩৫), রসুল শেখ (৩০), তানিয়া আক্তার (২২), কাদু শেখসহ (৫০) ২০ জন। তাদেরকে মুকসুদপুর ও ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তিসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের শুয়াশুর গ্রামে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ ফারুক খানের সমর্থক ও মোচনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদ মোল্যা ও তার দুই ভাই মনির মোল্যা এবং এনামুল মোল্যার নেতৃত্বে ওই এলাকার স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাবির মিয়ার সমর্থকদের হামলা করেছে এমন সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ২০জন আহত হন। এছাড়াও এই ঘটনায় মোচনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

এসময় ৩টি দোকান ও রাজ্জাক শেখ, মারুফ শেখ, নওসার শেখ, রবিউল শেখের বাড়িসহ প্রায় ৮ বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

 

আহতদের মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তিসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। হামলায় আহত কাদের শেখ (৪৫) নামের এক কর্মীকে প্রথমে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঈগল প্রতীকের সমর্থক।

 

এ ঘটনায় মোচনা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইমদাদ মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে মুকসুদপুর থানা পুলিশ। মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান টুটুল বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আজ মোচনা ইউনিয়নের শুয়াশুর গ্রামে নৌকা সমর্থক ও ঈগলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে।

 

মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম জানান, নৌকা ও ঈগলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোচনা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইমদাদ মোল্লাকে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, বুধবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সভা চলাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থীর তিনজন সমর্থককে মারপিট করে নৌকার সমর্থকরা। ওই সময় নুর আলম নামের একজনকে হতুড়ি পেটা করারও অভিযোগ নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই আসনের একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি থাকার কারণে কিছু সুবিধাবাদি লোক তাকে ঘিরে রেখেছে। ত্যাগী আওয়ামী লীগ কর্মীদের মূল্যায়ন না করে তিনি নব্য আওয়ামীদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে জনবিচ্ছিন্নদের মনোনয়ন দেয়ার কারণে এলাকায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিগত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

 

এছাড়া উপজেলা নির্বাচনে মুহাম্মদ ফারুক খান মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে মো. কাবির মিয়া প্রায় ২৯ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয় লাভ করে এবং গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের ৭ প্রার্থী পরাজিত হয়। সে কারণে এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাবির মিয়ার সঙ্গে মুহাম্মদ ফারুক খানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।