গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদ এবং তা বন্ধের দাবিতে জামালপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর জামালপুর সদর উপজেলার শরীফপুর বাজারে এই কর্মসূচির আয়োজন করে আহলে হাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ-এর জামালপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা শাখা।
ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।তাঁরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার হাতে নিয়ে গাজায় নির্বিচারে নারী-শিশু হত্যা, হাসপাতাল ও রিফিউজি ক্যাম্পে হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক মো. ফজলুল রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আলিম।
আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক বাহাজ উদ্দিন, ইউসুফ আলী, মাওলানা জাকারিয়া হোসাইনসহ অন্যান্য স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও সুধীজন। বক্তারা বলেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের ওপর বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুর কান্না, মায়ের আহাজারি, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা মানুষের আর্তনাদ—সবকিছুই আজ বিশ্ব বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে জাতিসংঘ ও বিশ্ব শক্তিগুলো নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন।” তারা অবিলম্বে গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘ, ওআইসি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের কেনা প্রতিটি ইসরায়েলি পণ্য তাদের গোলাবারুদের উৎস। তাই এখনই আমাদের উচিত ইসরায়েলি সব ধরনের পণ্য বর্জন করা এবং সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করো, ইসরায়েলি সন্ত্রাসের বিচার চাই, বিশ্ব মুসলিম এক হও, ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করো,মানবতার পক্ষে দাঁড়াও—ইত্যাদি স্লোগানে সারা বাজার মুখরিত করে তোলেন।মানববন্ধন শেষে দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
এদিকে জামালপুর শহরের বিভিন্ন মসজিদেও জুমার নামাজের পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একই দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয়রা বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। গাজায় যে গণহত্যা চলছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলার এখনই সময়।'





