খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মো. হেলাল উদ্দিনের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে শাহ-সিরিন সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। বৃহস্পতিবার (০১ আগস্ট) জরুরি প্রয়োজনে যশোরে নিজের বাড়িতে যান হেলাল। পরে শুক্রবার (০২ আগস্ট) সকালে ভাড়া বাসায় ফিরে দেখেন তার বাসার সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।
হেলাল উদ্দিন শুরু থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এমনকি আন্দোলনে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের ছাড়ানোর জন্য সে শিক্ষকদের সাথে সারারাত থানায় ছিলেন বলেও জানান তার সহপাঠীরা।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে খুলনায় আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তার জন্য খুলনার বিজ্ঞ আইনজীবীদের নিয়ে সে ৮-১০ জনের একটি লিগ্যাল প্যানেল তৈরি হয়েছে তাদেরকে সহায়তা দিয়ে আসছিলেন তিনি। শুক্রবার বাসায় ফিরে তিনি দেখেন, বাসার মেইন গেটের তালা ভাঙা। এরপর রুমে ঢুকলে চেয়ার-টেবিলও ভাঙা অবস্থায় এবং অন্যান্য জিনিসপত্র এলোমেলো পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মো. হেলাল বলেন, 'গতকাল যশোর থেকে সকালে এসে দেখি মেইন গেট ও আমার রুমের তালা ভেঙে কে বা কারা ঢুকে সব ভাঙচুর করে রেখে গেছে। আমার ড্রয়ারে আড়াই হাজার টাকা ছিলো, সেটা নিয়ে গেছে। তবে আমার ল্যাপটপ নেয় নি। আমার মনে হচ্ছে আমাকে কে বা কারা হয়তো খুঁজতে এসেছিলো। কিন্তু আমাকে বাসায় না পেয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর করে রেখে গেছে।'
তিনি বলেন, 'বর্তমানে এ ভবনে আমিসহ আর দুইজন থাকি। এখন বাড়িওয়ালাও বাসায় নেই। আমি দুদিন আগেই এমন আভাস পেয়েছিলাম। তাই গত পরশুদিন থেকেই রুমে থাকি না। বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আমি থানায় জিডি করবো। বাকিটা প্রশাসন দেখবে যা করার।'
এ ব্যাপারে খুলনার হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, 'এরকম কোন অভিযোগ বা তথ্য এখনো আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।'





