কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের গুজাদিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একটি রাইস মিলের দোকান থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় মালামালসহ দোকানগুলো পুড়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঈদের আগে হঠাৎ এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
অনেকেরই বছরের সঞ্চয় ও ঈদকেন্দ্রিক পণ্য মজুদ ছিল দোকানে, যা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন রমজানের ঈদকে সামনে রেখে প্রায় সব দোকানেই মালামাল তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে গুজাদিয়া বাজারের সৈয়দ নুরুল ইসলামের একটি রাইস মিলের দোকানে আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। এরই মধ্যে আগুনে চারটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে আগুনে ইলেক্ট্রনিক পণ্যের শোরুম, হার্ডওয়্যারের দোকান, কাপড়ের দোকান, রাইস মিল পুড়ে সম্পুর্ণ ছাই হয়ে যায় খবর পেয়ে প্রথমে করিমগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
পরে আগুনের তীব্রতা বিবেচনা করে তাড়াইল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও একটি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। মোট দু'টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগে যখন বেচাকেনা জমতে শুরু করছে ঠিক সেই সময় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো। ঈদকে কেন্দ্র করে সবগুলো দোকানেই মালামাল মজুদ রেখেছিলেন তারা। সেসব জিনিসপত্র পুড়ে যাওয়ায় তাদের মাথায় হাত পড়েছে।
কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে দোকান থেকে কিছু মালামাল উদ্ধারের চেষ্টাও করেছেন। আগুনে মালামাল পুয়ায় চরমর মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। করিমগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মাহাবুব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে তাড়াইল থেকে আরও একটি ইউনিট এসে যোগ দেয়।
সব মিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভানোর অভিযানে নামে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। ঘটনাস্থল দূরত্ব বেশি হওয়ায় আমাদের যেতে সময় লেগেছে।
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘রমজানের মধ্যে এটি দুঃখজনক ঘটনা। সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





