Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
মতামত

কথিত সাংবাদিক এবং একজন পতিতার গল্প!

admin • 06 Dec 2023, 11:24 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
কথিত সাংবাদিক এবং একজন পতিতার গল্প!

কুষ্টিয়ায় অনেক ইটের ভাটা আছে। ভাটা বলতেই সেখানে কম-বেশী কাঠ পোড়ানো হয়, যা আইনবিরুদ্ধ। বেলা তখন ১১ টা হবে। দুইজন হ্যাংলা পাতলা নেশাখোর জাতীয় দুই যুবক মোটর সাইকেলে এসে দাঁড়াল একটি ইটভাটার অফিসের সামনে। মটর সাইকেলে লেখা আছে প্রেস। গ্যাটগ্যাট করে সিনেমা ষ্টাইলে ছবি তুলল ভাটার চিমনিসহ ভাটায় আনা কাঠের। আমি কৌতুহল দৃষ্টিতে পুরো ঘটনা অবলোকন করতে থাকলাম। পরের ঘটনা সাংবাদিকতার আড়ালে সাংঘাতিকতা।

যুবকদ্বয় খোঁজ করতে লাগল ভাটার মালিকককে। বেরসিক ভাটা মালিকও অদূরে দাড়িয়ে ওই দুই যুবকের গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন। পরে মালিকের কাছে এগিয়ে এসে ওদের একজন বলল, ভাটা আপনার। মালিকের উত্তর জি। কাঠ পোড়ান কেন? মালিকের উত্তর সবাই পোড়ায় তাই।

 

জানেন কাঠ পোড়ালে কী হয়? মালিকের সোজাসাপটা উত্তর খরচ কমে। একথা বলে ভাটা মালিক তার কাজে চলে যাচ্ছিলেন। এমন সময় যুবকদ্বয় বলল, আরে চলে যাচ্ছেন যে। ভাটা মালিকের সোজাসাটা উত্তর, কী করতে হবে। আমরা আসলাম বুঝতে পারছেন না? এবারও মালিকের জবাব, তার আবার কী বুঝব। আসলেন, ছবি তুললেন, এখন আপনাদের যে কাজ সেই কাজ করেন গিয়ে। এবার যুবকদ্বয় ক্ষেপে গিয়ে বললেন আমরা তো ছবিসহ খবরের কাগজে ছেপে দিয়ে লিখব আপনার ভাটায় কাঠ পোড়ানোর কথা। মালিকের উত্তর, লিখবেন।

 

তাতে আমার কী করার আছে? এবার যুবকদ্বয় কিছুটা থতমত খেয়ে বললেন, যখন খবরের কাগজে ছাপা হয়ে যাবে তখন বুঝবেন ঠ্যালা কাকে বলে। এবার ভাটা মালিকের কড়া জবাব, সামাল দিতে পারলে ভাটা চালাব, নতুবা বন্ধ করে দেব বলে বীরের মতো একটি প্রবাদ বাক্য আওড়ালেন ‘কামার বাড়ির বিড়াল ঘন্টা দেখে ভয় পায় না’। ভাটা মালিকের মনে ওরা বিন্দুমাত্র ভয় ধরাতে না পেয়ে অবশেষে ঘনিষ্ট হতে চেষ্টা করল। এবার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, তাই বলছি ঝামেলায় না গিয়ে হাজার পাঁচেক টাকা দিন। নিউজটা আমরা চেপে যাব।

 

কিন্তু ভাটা মালিকের সিদ্ধান্ত এক, কথাও এক, যা পারেন তাই করেন গে। নিরুপায় হয়ে নেশাখোর জাতীয় যুবকদের একজন বলল, যাকগে আপনার সাথে যখন পরিচয় হয়েছে, তখন তো আর ক্ষতি করা যায় না। তো সকালবেলা আসলাম। আপডাউন লিটার দুয়েক তেল পুড়েছে। অন্তত: ওই পয়সাটা দেন। যুবকদ্বয়ের সর্বশেষ প্রস্তাবে ভাটা মালিকের বুঝতে আর বাকি রইল না, এরা কোথাকার প্রোডাক্ট। তাই তিনি রাগত স্বরেই বললেন, একটি টাকাও আমি দিতে পারব না। এসব দেখে শুনে পিঠ চুলকিয়ে দেয়ার গল্প আমার খুব বেশী মনে পড়ছিল। এবার একটি কমন গল্প দিয়েই লেখটির ইতি টানছি।

এক যৌনকর্মী ডাক্তারের কাছে গিয়ে বললেন তার শরীরে আরেকটি ছিদ্র করে দিতে। অবাক হয়ে ডাক্তার এর কারণ জিজ্ঞেস করতেই যৌনকর্মীটি চটপট জবাব দিলেন, ‘ইদানীং আমার ব্যবসা খুব ভালো যাচ্ছে। এক শাখায় খদ্দের সামলাতে পারছি না। তাই এখন আরেকটি শাখা খুলতে এসেছি!’ কথিত ওই শ্রেণীর লোকদের ব্যবসাও ইদানীং বেশ রমরমা যাচ্ছে।

 

একজন যৌনকর্মীর সাথে এদের মিল হচ্ছে, টাকা পেলে যেমন যৌনকর্মীটি শুয়ে পড়েন। তেমনি টাকা পেলে ওরা কখন কখনও ‘গে’ হতে পারে।

 

কবি হেলাল হাফিজ যৌবনে মস্ত বড় জুয়াড়ি ছিলেন, জীবনের একটা বড় অংশ তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন জুয়া খেলে। এখনও তিনি জুয়ার আসরে যান, নিজে এখন আর অংশ না নিলেও অন্যদের জুয়াখেলা তিনি বিরস বদনে দেখেন। ক্লান্ত-বিধ্বস্ত-বিপর্যস্ত-কপর্দকশূন্য-গতায়ু হেলাল হাফিজের এখন আর সাধ্য নেই জুয়ায় অংশ নেয়ার। একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘হেলাল ভাই, এই বয়সে অন্যদের জুয়াখেলা দেখে আপনি কী মজাটা পান?’ তিনি বলেছিলেন, ‘সঙ্গমের আগে ফোর-প্লে করে যে মজাটা পাওয়া যায়, দূর থেকে অন্যদের জুয়াখেলা দেখে এখন আমি সেই মজাটা পাই!’

দূর থেকে ওদের জারজ নেতারাও এমন মজা পায়। ধিক! ওই সকল সাংঘাতিক ও তাদের নেতাদের প্রতি!

 

লেখক পরিচিতি: এ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, ‘সংবাদপত্র বিষয়ক আইন’ গ্রন্থের লেখক ও সম্পাদক-প্রকাশক ‘দৈনিক ইন্টার‌্যাশনাল’। 

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।