Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ জেলার খবর

ওরস মেলার নামে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা

admin • 10 Dec 2024, 06:01 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
ওরস মেলার নামে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ সুরুলিয়া এলাকায় মা বারই রাণীর মাজারে চলছে ৪৩তম ওরস।এ ওরসের নামে প্রকাশ্য চলছে মাদক সেবন ও বেচাকেনা‌। গত ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া পনোরো দিনের এই ওরস শেষ হবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর। 

 

ওরসে প্রতিদিন পাগলের ভক্তরা গাঁজার আসর বসিয়ে গাঁজা সেবন ও বিক্রি করছেন। মাদক সেবনে জোগ দিচ্ছেন জেলার বিভিন্নস্থান থেকে আসা তরুণ শিক্ষার্থী ও যুবকরা। তারা মনে করেন ওরস মেলায় এসেছেন আর গাঁজা খাবেন না তা কি করে হয়? সব মিলিয়ে এ যেনো ওরসের নামে মাদকসেবীদের মহামিলন মেলা।

তবে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন এসব মাদক সেবন ও বেচাকেনা‌ বিষয় জেনেও নিরব আছেন বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা।  

 

মা বারই রাণী উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান আউলিয়া হযরত শাহ কামাল ইয়ামেনী (র) এর সহধর্মিণী। উপজেলার সরুলিয়া এলাকায় মা বারই রানী (রহ) ইয়েমেনীর মাজার অবস্থিত। এই মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর অগ্রহায়ন মাসের শেষের দিকে মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। 

 

মেলাকে কেন্দ্র করেই মাজারের আশপাশে বসে বিভিন্ন দোকান। এসব দোকানে প্রকাশ্যে মেলায় আসা ভক্তদের কাছে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা। এবারও মেলায় শতাধিক গাঁজার দোকান বসেছে।

 

সোমবার (৯ ডিসেম্বর ) রাতে সরেজমিনে মাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেলায় মাদকসেবীরা মাজারের পুর্ব পাশ্বে ফসলের খোলা মাঠে শতাধিক মাদক বিক্রি ও সেবনের আস্তানা গেরে বসেছে। সকল প্রকার মাদক দ্রব্যই পাওয়া যায় এ মেলায়। প্রকাশ্যে দাঁড়ি পাল্লায় মেপে বিক্রিও হচ্ছে গাজা। ১৫ দিনের এ মেলায় বসা শতাধিক দোকানের প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ১শ-৩শ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

 

আর প্রতিদিন বিকেল থেকেই জমতে থাকে এইসব মাদকের দোকান। চলে সারারাত। মেলা প্রাঙ্গণ যেন নেশার স্বর্গরাজ্য ও নিরাপদ স্থান। দলে দলে আস্তানায় চলছে মাদক সেবন। মেলা প্রাঙ্গণের বাতাসে বইছে গাঁজার গন্ধ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এই মেলার জন্য এই এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। কিছু প্রভাবশালী মানুষ মেলার নামে গাঁজার জমজমাট ব্যবসা করছে। ওরসের নাম নিয়ে এখানে মাদক ব্যবসা করে টাকা কামানোয় তাদের আসল উদ্দেশ্য।

 

এসব বিষয়ে মাজারে ওরস পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ লিখনুজ্জামান লিখনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মাজার এভাবেই চলে। পূর্বেও এভাবেই চলছে।এবারও তাই চলবে।পাগলের ওরসে গাঁজা চলেই।এখানে ডিএসবির লোক আছে, প্রশাসনের লোক আছে,সব লোক আছে। ওনাদের সম্মতি নিয়েই সরাসরি চলতাছে।ইউএনও,ডিসি,এসপি, ওসির রেফারেন্সে চলে অনুমতিক্রমে।

 

ওই ইউনিয়নের বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বে থাকা মেলান্দহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম হিমন জানান, ওখানে দু-তিন জন গিয়ে অভিযান চালানো সম্ভব না।ওখানে সবাই পাগল।অভিযানে কম লোক গেলে আক্রমনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একা সেখানে গেলে বেঁধে মারতেও পারে। অভিযানে ২০- ২৫ জনের টিম অংশ নিতে হবে।

 

জামালপুর সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কমিটির সভাপতি মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘ওরস মেলার নামে এভাবে প্রকাশ্যে মাদক সেবন বন্ধ না হলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়বে। মেলায় মাদক সেবন ও বিক্রির বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনসহ সবাই জানলেও কেনো কোনো অভিযান পরিচালনা হচ্ছেনা জানা নাই,। দ্রুত অভিযান করে এসব বন্ধ করার দাবি জানাই। 

 

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান জানান, ওরসে মাদক চলে জানতাম না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম ।দ্রুত সময়ের মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তা নিয়ে অভিযান চালানো হবে। 

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।