Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

ঐতিহাসিক মেলান্দহ হানাদারমুক্ত দিবস আজ

admin • 08 Dec 2025, 01:05 PM • পঠিত 1 বার
শেয়ার করুন:
ঐতিহাসিক মেলান্দহ হানাদারমুক্ত দিবস আজ

জামালপুরের মেলান্দহে আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রথমবারের মতো উত্তোলন করেন আলম কোম্পানির টুআইসি (পরবর্তীতে সেঙ্গাপাড়া কোম্পানি) কমান্ডার আব্দুল করিম।

 
দিবসটি উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন।  
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুযায়ী, মেলান্দহ সদর ও মাহমুদপুর পয়লা গ্রামে মুক্তিবাহিনী ও পাক সেনাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মাহমুদপুর পয়লার সম্মুখ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর ব্রাশফায়ারে ১২ জন পাক সেনা নিহত হয়। এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা রমিজ ও সমর শহিদ হন। এছাড়াও ৮ থেকে ১০ জন বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।  
অন্যদিকে, পাক সেনারা কলাবাধা হাইস্কুলের মুক্তিকামী শিক্ষার্থী আব্দুল কদ্দুসকে আটক করে ইসলামপুর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে জোরপূর্বক ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। পরে তাকে জামালপুরের কালিরঘাট বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়।  
৭ ডিসেম্বর রাতে কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল করিমের নেতৃত্বে ৮ ডিসেম্বর সকালে পাক সেনাদের ক্যাম্প মেলান্দহ থানা ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকালেই থানাকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করলে তৎকালীন ওসি জোনাব আলি আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেন। পরে তাকে পাক সেনা, আলবদর ও রাজাকার সদস্যসহ ৪৬ জনকে উমির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল মাঠে নিয়ে গিয়ে নিরস্ত্র করা হয়।  
এ সময় প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে ওসি জোনাব আলি আত্মসমর্পণ করেন। এরপরই কমান্ডার আব্দুল করিম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মেলান্দহকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন।  

২০১০ সালে মেলান্দহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রয়াত কমান্ডার আলহাজ এসএম আব্দুল মান্নান প্রথমবারের মতো দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের উদ্যোগ নেন। এরপর থেকে প্রতি বছরই মেলান্দহবাসী দিবসটি শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে পালন করে আসছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।