জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে ৮ শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুর রহমান। তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষকের গাফিলতি লক্ষ্য করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
ওই কেন্দ্রে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন,মো. রিপন মিয়া (সভুকুড়া মণ্ডলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়), মো. মাহবুবুর রহমান (সিরাজাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়)।
পরে সকাল সাড়ে ১১টা দিকে ইসলামপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রেও পরিদর্শনকালে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আরও ছয় শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মাদ্রাসা কেন্দ্রে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন আবুল কাশেম (হাড়িয়াবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা), সেলিম মিয়া (পচাবহলা দাখিল মাদ্রাসা), শহিদুল ইসলাম (মরাকান্দী দাখিল মাদ্রাসা), বিপুল রানা (কান্দার চর দাখিল মাদ্রাসা), রিদুয়ানুল হক (ইসলামপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা) ও মোস্তাফিজুর রহমান (রামভ্রদা দাখিল মাদ্রাসা)।
জানা গেছে, ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রসায়ন এবং ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পর্যায়ের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলছিল। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়, আর দেড় ঘণ্টা পার না হতেই দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ মিললে এই সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন।
ইউএনও মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, “পরীক্ষার পরিবেশ যাতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ থাকে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর নজরদারিতে রয়েছি। কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।”
উল্লেখ্য, চলতি বছর ইসলামপুর উপজেলায় ১০টি কেন্দ্রে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিকে ২ হাজার ৭৭৪ জন, দাখিলে ৯০৫ জন এবং ভোকেশনালে ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।





