ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হলগুলোতে দিনপ্রতি খাবারের দামে অতিরিক্ত ৭টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে প্রতিনিয়ত লাফিয়ে বাড়ছে চাল-ডাল-তেলসহ রান্নায় ব্যবহৃত জিনিসপত্রের দাম।
দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় প্রতিটি হলের প্রভোস্ট ও প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতির সমন্বয়ে মিটিং করে দুপুর ও রাতের মিলে ২টাকা করে এবং সকালের মিলে ৩টাকা বাড়ানো হয়েছে। দিনপ্রতি খাবারের দামে অতিরিক্ত এই ৭টাকা বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বিপাকে শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে সকালে সর্বনিম্ন প্রতিটি মিল ১৫টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে দুপুর ও রাতে সর্বনিম্ন ৩০ ও সর্বোচ্চ ৪০টাকায় খাবার খেতে পারছেন হলে খাবার খেতে আসা শিক্ষার্থীরা। খাবারের মান নিয়ে শঙ্কা ও নতুন এই মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খাবারে ভর্তুকি না বাড়িয়ে বরং শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত এই ৭টাকা কিছুটা চাপ বাড়াবে।
তবে প্রভোস্ট বললেন বাজার বিবেচনায় দিনপ্রতি ৭টাকা বৃদ্ধি নিয়ে তেমন কিছু বলার থাকে না। একাধিক হলের ডায়নিং ম্যানেজার খাবারের মান বাড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান। আর প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি জানান খাবারের মান যাচাই এ কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হবে। মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তি প্রায় ২৪০০ কিলোক্যালরি ব্যয় করে প্রতিদিন। অর্থাৎ, কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন, স্নেহ জাতীয় উপাদানের অনুপাত ৪:৪:১ প্রয়োজন যা ডাইনিংয়ে খাবারের মানের সাথে সামজ্ঞস্য নয়।
এতে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। ব্যালেন্স ফুড না হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মেডিকেলে দ্বারস্থ হয় শিক্ষার্থীরা। এবিষয়ে লালন শাহ্ হলের ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ বর্ষের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌফিক আলম বলেন, খাবারের দাম বাড়লেও মান বাড়ার কোন প্রশ্নই আসে না, উপরন্তু মান আরো কমছে। আর এই যে ভাত, এটা ত এখন বস্তিতেও চলে না। যে খাবার আমাদের দেওয়া হচ্ছে, তা একজন শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত না। আমাদের দাবি খাবারের মান ও ভর্তুকি বাড়ানো হোক।
অপর এক শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, আমরা যখন ২০১৯ সালে ক্যাম্পাসে আসি তখন খাবারের মান ভালো ছিল আর দাম সাধ্যের মধ্যে ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং হল প্রশাসন দিনের পর দিন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়িয়ে চলছে। একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানকে সকালে চিন্তা করতে হচ্ছে সে কি খাবে সকালে খাবার খেলে দুপুরে ভাবতে হচ্ছে কি খাব আবার তার চিন্তা করতে হচ্ছে কিন্তু পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে খাদ্য নিশ্চয়তা সে পাচ্ছে না।
ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, আমরা সুষম খাদ্য ও সেই সাথে খাবারের সঠিক মান এবং দামের সামঞ্জস্যতা চাই। করোনা ও করোনা পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বেশি দাম দিয়ে খাবার কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।
লালন শাহ্ হলের ডাইনিং ম্যানেজার সাবু বলেন, খাবারের মান বাড়াতে ভালো চাউলের ভাই, সবজি, সালাদ দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করেছি। ছাত্রদের কাছে থেকে যদি আমি ২-৩ টাকা বেশি নিয়েও থাকি সেক্ষেত্রে তাদের সেই অনুযায়ী খাবার দেওয়া হবে।
এদিকে লালন শাহ্ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: আকতার হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম যে হারে বেড়েছে সে তুলনায় মিল প্রতি ২টাকা বৃদ্ধি কিছুই না। হলের খরচ থেকে ভর্তুকি চালানো কিছুটা কঠিন হয়ে যায়।
খাবারের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, খাবারের দাম বৃদ্ধি আসলে কোন সুখকর কথা না। তবে আমরা বাধ্য হয়েই দাম বৃদ্ধি করেছি।
আমরা আশাবাদী এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে খাবারের মান কিছুটা হলেও বাড়বে। উল্লেখ্য, অক্টোবর, ২০২৩ এর প্রথম দিন থেকে এই মূল্যতালিকা কার্যকর করা হয়। এর আগে ২১ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে প্রভোস্ট কাউন্সিলের ১১১তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে খাবার তালিকা ও মূল্য পূনঃনির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। সে সময় হলগুলোতে সকালে খাবারের মূল্য ১০ টাকার পরিবর্তে ১২ টাকা, দুপুর ও রাতে ২২ এর পরিবর্তে ২৫, ২৫ এর পরিবর্তে ২৮, ৩৫ এর পরিবর্তে ৩৮ টাকা করা হয়।





