কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার পথে যাত্রা করে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। খাইরুল খাঁ ছিলেন বাসের বি-২ আসনের যাত্রী। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল পৌনে ৩টার দিকে বাসে উঠেছিলেন খোকসা কাউন্টার থেকে।
যাত্রাপথে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত বাস থেকে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতর থেকে বেঁচে ফিরেছেন।
বেঁচে ফেরাদের একজন খাইরুল খাঁ। পেশায় পোশাক শ্রমিক খাইরুল খাঁ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। ঘটনা মনে হলে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়ছেন।
খাইরুল খাঁ বলেন, বাসটি পন্টুনের দিকে যখন যাচ্ছিল তখন প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। কিছু বুঝে উঠার আগে দেখি বাসটি সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ঝাঁকুনির মধ্যে প্রচণ্ড ধাক্কা লেগে দরজার কাছাকাছি চলে গেছি। দরজাটা খোলা ছিল। মনে হয়, ছিটকে নদীর পানিতে পড়ে গেছি।
তিনি বলেন, কয়েকজন যাত্রী ও কিছু ব্যাগ পানিতে ভাসতে দেখি। তখন বুঝলাম বাস নদীতে পড়ে গেছে। আমাকে একজন টেনে তোলেন। বাসের প্রতিটি আসনেই যাত্রী ছিল। তাদের অধিকাংশই নারী এবং তাদের সঙ্গে শিশু ছিল। পুরো বাসভর্তি লোক ছিল।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।





