৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন হওয়ার কথা ১৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু পোষ্যকোটা আন্দোলন, ছাত্রসংগঠনগুলোর দাবি, মনোনয়ন বিতরণে জটিলতা আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হঠাৎ নিয়োগ—সব মিলিয়ে ভোট ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে পোষ্যকোটা। ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ উল্লেখ করে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ অবস্থান ধর্মঘট করছেন। গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) টানা চতুর্থ দিনের মতো তাঁরা ক্লাস ও দাপ্তরিক কাজ বর্জন করেন। এ আন্দোলনে রাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এনামুল হক ও আবদুল হান্নানও অংশ নেন এবং তাদের ৮ দফা পূরন না হলে তারা আগামী ২৪ আগস্ট হতে ২৬ আগস্ট পূর্নদিবস কর্মবিরতি এবং অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচী পালন করবেন বলে তারা জানিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছি। দাবি না মানলে আগামী রোববার (২৪ আগস্ট) থেকে লাগাতার কর্মসূচি পালন করা হবে।”
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, “পোষ্যকোটা আন্দোলনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রস্তুতি থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হচ্ছে।”
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন বলেন, “রাকসু নির্বাচনে কমপক্ষে তিন শতাধিক শিক্ষক এবং সার্বিক তদারকির জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন। তারা যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে সঠিক সময়ে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না। তবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি।"
তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্ধারিত সময়েই রাকসু নির্বাচন আয়োজন করব। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পিএসসিতে যোগ দিলেও নতুন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচন ঘিরে ছাত্রসংগঠনগুলো বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছে। শাখা ছাত্রশিবির একটি ‘ইনক্লুসিভ প্যানেল’ গঠনের চিন্তা করছে, যেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীও থাকতে পারেন।
অন্যদিকে ছাত্রদল নির্বাচন ঘিরে আপত্তি জানাচ্ছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নেই, নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। ফলে এই অবস্থায় নির্বাচন অর্থহীন।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “প্রশাসন সকল সংগঠনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ডাকসুর মতো আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত ছিল। দ্রুত নতুন তফসিল ঘোষণা করতে হবে।”
পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন বিতরণ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত ১৫ দিন সময় ছিল। কিন্তু ২০ আগস্ট মনোনয়ন বিতরণের তারিখ স্থগিত করে কমিশন পরবর্তীতে তা ৪ দিন পিছিয়েছে। এতে সময় কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দিন। শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা বলছেন, এতে নির্বাচনী স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরসহ তিন দফা দাবিতে গত ১৪ আগস্ট বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে আমরণ গণঅনশন শুরু করেন। কমিশনের আশ্বাসে তারা অনশন স্থগিত করলেও দাবি পূরণ না হলে পুনরায় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “আমাদের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৪-২৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোয়নপত্র বিতরণ, ২৭ ও ২৮ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল, ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই, ২ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং ৪ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবাসিক হলে ভোট গ্রহণ এবং ওই দিনই ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা।





