২০২৫ সালে গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার জন্য সাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউনিক এবং মানসম্মত কনটেন্ট: আপনার সাইটে থাকা প্রতিটি পোস্ট বা পেজ যেন মৌলিক ও মানসম্মত হয়। কমপক্ষে ২০-৩০টি ভালো মানের ব্লগ পোস্ট রাখা উচিত (প্রতি পোস্ট ৮০০-১০০০ শব্দ বা তার বেশি হলে ভালো)। কনটেন্ট যেন নির্ভুল, তথ্যবহুল এবং পাঠকের জন্য উপযোগী হয়।
সাইটের নকশা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা (UI/UX) : সাইটের রেসপন্সিভ ডিজাইন নিশ্চিত করুন যাতে মোবাইল, ট্যাবলেট এবং ডেস্কটপে ঠিকমতো দেখা যায়। সহজ এবং দ্রুত লোডিং নিশ্চিত করুন (পেজ লোডিং টাইম ২-৩ সেকেন্ডের মধ্যে রাখা ভালো)। ব্যবহারকারী যেন সহজে নেভিগেট করতে পারে, এ জন্য মেনু এবং ক্যাটাগরি সিস্টেম ঠিকভাবে সাজানো রাখুন।
গুরুত্বপূর্ণ পেজ অন্তর্ভুক্ত করুন : অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পেতে নিচের পেজগুলো থাকা জরুরি: About Us Privacy Policy Terms and Conditions Contact Us
ডোমেইন এবং হোস্টিং : একটি পেড ডোমেইন এবং প্রিমিয়াম হোস্টিং ব্যবহার করুন। ফ্রি সাবডোমেইন বা কম মানের হোস্টিং ব্যবহার করলে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ডোমেইন যেন পেশাদার এবং নির্ভুল নামে হয়।
ইমেজ এবং মিডিয়া ব্যবহারে সতর্কতা :
সমস্ত ইমেজ যেন কপিরাইট ফ্রি হয় বা নিজে তৈরি করা হয়। আপনি Pexels, Unsplash, বা Pixabay ব্যবহার করতে পারেন। ইমেজ, ভিডিও বা মিডিয়া ফাইল যেন দ্রুত লোড হয় এবং SEO-ফ্রেন্ডলি হয়।
ট্রাফিক সোর্স এবং কনটেন্ট সেফটি : অবৈধ পদ্ধতিতে (যেমন: বট ট্রাফিক বা পেইড ট্রাফিক) সাইটে ভিজিটর আনার চেষ্টা করবেন না। সাইটের কনটেন্ট যেন গুগলের পলিসি (নিষিদ্ধ কনটেন্ট) লঙ্ঘন না করে। যেমন: পর্নোগ্রাফি, পাইরেটেড সফটওয়্যার, জুয়া ইত্যাদি কনটেন্ট রাখা যাবে না।
SEO এবং ট্রাফিক : সাইটের অন-পেজ ও অফ-পেজ SEO ঠিকমতো করুন। প্রতিটি পোস্টে কিওয়ার্ড অপটিমাইজেশন, মেটা ট্যাগ, হেডার ট্যাগ, এবং ALT টেক্সট ব্যবহার করুন। অর্গানিক ট্রাফিক আনতে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা অন্যান্য বৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
কমপক্ষে ১-২ মাস পুরাতন সাইট : সাইটটি নতুন হলে এপ্রুভাল পেতে একটু সময় লাগতে পারে। তাই ডোমেইন রেজিস্ট্রেশনের পর কমপক্ষে ১-২ মাস সময় দিন এবং নিয়মিত পোস্ট আপলোড করুন।
টেকনিক্যাল সেটআপ : SSL সার্টিফিকেট (HTTPS) থাকা বাধ্যতামূলক। XML সাইটম্যাপ তৈরি করে Google Search Console-এ সাবমিট করুন। Robots.txt ফাইল সঠিকভাবে কনফিগার করুন।
অ্যাডসেন্স অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়ার আগে যা পরীক্ষা /চেক করবেন : সাইটের প্রতিটি লিঙ্ক, ইমেজ, এবং পেজ যেন সঠিকভাবে কাজ করে। Broken Links বা Error Pages (404) যেন না থাকে।
অতিরিক্ত টিপস: নীচ কনটেন্ট (যেমন: রেসিপি, টেকনোলজি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ) তৈরি করা অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। নিয়মিত পোস্ট আপডেট করুন এবং সাইটে রেগুলার ভিজিটর তৈরি করার চেষ্টা করুন।
আপনি যদি এই নিয়মগুলো মেনে সাইট তৈরি করেন, তাহলে গুগল অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
গুগল অ্যাডসেন্স ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে নিশ সিলেকশনে অবশ্যই সার্চ ভলিউম, কনটেন্টের ডিমান্ড এবং কম্পিটিশন বিবেচনা করতে হবে। নিশের বিষয়বস্তুতে গভীরভাবে কাজ করলে এবং কনটেন্ট ইউনিক হলে ভালো রেভিনিউ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। লেখক: লুৎফর রহমান,টেকনোলজি উদ্যোক্তা ও প্যাসিভ ইনকাম এক্সপার্ট, রিসার্চার, এবং পাবলিশার গুগল এল এল সি





