কুমিল্লার বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিনকে হত্যার দায়ে স্ত্রী হিমুর যাবজ্জীবন ও স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিক আশিকুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।
এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার সহকারী পিপি মো. আবু ইউসুফ মুন্সী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিনের স্ত্রী মোনালিসা হিমু (২৮)। তিনি সিরাজগঞ্জ সদরের হোসেনপুর এলাকার আব্দুল মান্নানের মেয়ে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পরকিয়া প্রেমিক মো. আশিকুজ্জামান (২৭) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলমের চেঙ্গাছাল এলাকার নাসিরুল আলমের ছেলে। নিহত শরিফ উদ্দিন সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালে ১৫ জানুয়ারি রাতে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিনকে তাঁর ভাড়া বাসায় হত্যা করে স্ত্রী হিমু ও স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিক মো. আশিকুজ্জামান। পরদিন ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে থানায় ডাকাতি ও হত্যা মামলা করেন স্ত্রী হিমু। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদ্ধার করা হয়। মামলার চার্জশিটে আসামি করা হয় হিমু ও আশিকুজ্জামানকে।
মামালার অতিরিক্ত পিপি মো. আবু ইউসুফ মুন্সী বলেন, ‘নিহত শরিফের স্ত্রী হিমু তাঁর পরকিয়া প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে রক্তক্ষরণ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এ মামলায় ১৭ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য শেষে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সাজা দেন আদালত।
হিমুর তিনটি নাবালক সন্তান থাকায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অপর আসামি আশিকুজ্জামাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।’





