Friday, 6 November 2026
শিরোনাম
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান এমপি বাবুলের কুমারখালীতে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাহানারা লতিফ মহিলা কলেজে নবীন বরণ, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো লুঙ্গিতে মোড়ানো সেই নবজাতকের ঠাঁই হলো রাজশাহীর ‘ছোটমণি নিবাসে’ সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী কলেজের শ্রেনীকক্ষে তালা,মাঠজুড়ে পশুর হাট ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি অধ্যাপকের প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ,সত্যতা কতটা? স্কুলশিক্ষার্থীদের কাছে ই-সিগারেট বিক্রির অভিযোগ, কুয়েতে ৫ বাংলাদেশী গ্রেপ্তার
এক্সক্লসিভ

স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্বামী

• • পঠিত 11 বার
শেয়ার করুন:
স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্বামী

ভালোবাসা শুধু অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তা প্রমাণ করা যায়। স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে এমনই এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন।

 

জানা যায়, গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। পাশাপাশি পেটে একটি টিউমারও শনাক্ত হয়। 

পরবর্তীতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের সমস্যা সমাধান হলেও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপযুক্ত ডোনার না থাকায় সংকট আরও গভীর হয়।

 

প্রথমে মিনারার মা কিডনি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও শারীরিক সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় স্ত্রীর জীবন রক্ষায় স্বামী জসিম উদ্দিন নিজেই কিডনি দিতে এগিয়ে আসেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর গত ৫ মার্চ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মিনারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।

 

মিনারা জানান, আমার অসুস্থতার সময় আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মা কিডনি দিতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। তখন আমার স্বামী নিজেই এগিয়ে আসে। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু সে শোনেনি। এখন আল্লাহর রহমতে আমরা দুজনেই ভালো আছি।

 

অন্যদিকে জসিম বলেন, স্ত্রীর এমন অবস্থায় শুরুতে কী করব ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বাঁচলে একসঙ্গে বাঁচব, মরলেও একসঙ্গে মরব। নিজের ইচ্ছাতেই কিডনি দিয়েছি। স্ত্রীকে সুস্থ দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

 

২০০৭ সালে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির এক সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জসিম ঢাকায় চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছেন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই এটিকে ভালোবাসা ও ত্যাগের এক অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।