কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নুরুজ্জামান বিশ্বাস গ্রুপের প্রতিণ্ঠান এনবি অটো ব্রিকস কারখানা শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রনি আহমেদ (২৫) নামে নিহত ওই শ্রমিকের লাশ কারখানার টয়লেট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে নিহত শ্রমিকের লাশের ময়নাতদন্ত না করে তড়িঘড়ি করে বুধবার রাতেই তার দাফন করা হয়েছে।
এনিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকায় এনবি অটো ব্রিকস কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিক রনি আহমেদ উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুন্ডি লস্করপাড়া গ্রামের আহাদ ড্রাইভারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বুধবার দুপুর ২.৩০টার দিকে কারখানায় কাজ শেষ বাড়ি ফেরার সময় কারখানার গেটে শ্রমিকদের দেহ তল্লাশি করছিলেন কারখানার কর্তব্যরত গার্ড। এসময় রনি আহমেদের দেহ তল্লাশি করে তার কাছে কারখানার কয়েকটি লোহার টুকরো পাওয়া গেলে তাকে গার্ড রুমে আটকে রেখে কারখানার উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়।
তাকে গার্ড রুমে বসিয়ে রাখতে বলা হলে কারখানার অন্য শ্রমিকরা রনিকে কটাক্ষ করে এবং তার সাথে অসাদাচারণ করে। একপর্যায়ে রনি টয়লেটে যেতে চাইলে তাকে গার্ড রুমের পাশের টয়লেট যেতে দেওয়া হয়। পরে টয়লেট থেকে রনির লাশ উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ রনির লাশ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
কারাখানা থেকে শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু ও লাশ উদ্ধারের বিষয়ে নুরুজ্জামান বিশ্বাস ব্রিকসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মইনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ঘটনাটি এড়িয়ে যান। তবে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছেন কারাখানা কতৃপক্ষ এমনটি কারখানার অন্যান্য শ্রমিক ও এলাকাবাসী জানিয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জনও চলছে। কারাখানা শ্রমিকের লাশ উদ্ধারের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) তারিকুল হক জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত দেওয়ায় লাশের ময়নাতদন্ত না করে রনির মরদেহ বুধবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের করা হয়েছে।





