সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও তার বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউপি কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
‘সাধুরপাড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তারা হত্যাকারীর বিচার দাবি করে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা।
এসময় বক্তব্য রাখেন, সাধুরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি গাজীউর রহমান মোল্লাহ, সহ-সভাপতি, রাশেদুরজ্জামান সোনা মিয়া, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়া আহম্মেদ সুমন, জাতীয় ছাত্র সমাজ জামালপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক আল মানছুর মুহিদসহ আর অনেকে
বিক্ষোভকারীরা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, মাহমুদুল আলম বাবু চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
তারা বলেন, “একজন সাংবাদিক হত্যার প্রধান আসামি কীভাবে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে? এটা শুধু অন্যায় নয়, এটি ন্যায়বিচারের চরম অপমান। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাবুর পুনরায় বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার দাবি করেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৪ জুন, জামালপুরের সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্মম হামলার শিকার হন। পরদিন ১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২০ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বাবুকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তবে জামিনে মুক্তির পর তিনি উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন এবং ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন। আদালতের এই রায়ের ভিত্তিতে তিনি সম্প্রতি স্বপদে ফিরে আসেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ছয় মাসের আদেশ কার্যকর হওয়ায় তিনি আগামী ১৯ আগস্ট পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকতে পারবেন।
বিচারের অপেক্ষায় থাকা একটি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জনপ্রতিনিধির চেয়ারে ফিরে আসায় শুধু প্রশ্নই নয়, আস্থারও সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী। বিষয়টি এখন জেলারসাসাকিব আল হাসান নাহিদ,জামালপুর। সাকিব আল হাসান নাহিদ, জামালপুর। সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।





