জামালপুরের মেলান্দহ রেলওয়ে স্টেশন পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
তবে কৃষকরা বলছেন,কিছু দিন আগে বেগুনের দাম কেজি প্রতি বিক্রি হতো ৫-৮ টাকা। বর্তমানে বাজার মূল্যে যে দামটা রয়েছে তাতে বেগুন চাষিরা বেশ খুশি।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেলান্দহ উপজেলার রেলওয়ে স্টেশন পাইকারি বেগুনের বাজার ঘুরে দেখা যায়,দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারেরা এ বাজারে বেগুন কিনতে এসেছে। উপজেলার বেগুন চাষিরাও বাজারে বেগুন বিক্রি করতে এসেছে।
রেলওয়ে স্টেশন পাইকারি ব্যবসায়ী সুরুজ্জামান জানান, উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বেগুন চাষিরা এই জায়গায় বেগুন বিক্রি করতে আসে। তাঁদের থেকে বেগুন কেনেন পাইকারেরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকার বেগুন কিনে নেন। এখন বেগুনের দাম আগের তুলনায় অনেক টায় বেড়েছে। আমরা বেগুন ২০-২৫ কেজি কিনতাছি।
উপজেলার ৪ নং চর এলাকার বেগুন চাষি হানিফ মিয়া বলেন,'কয়েকদিন ধরে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা প্রথম থেকে বেগুন লাগিয়ে ছিল তারা কিছুটা লাভ করেছে। যে দাম রয়েছে তাতে লাভ ভালোই হবে। বর্তমানে পাইকারদের কাছে বেগুন বিক্রি করতাছি ২৫ টাকা কেজিতে।'
সিলেট থেকে বেগুন কিনতে আসা নাজমুল নামে এক ব্যবসায়ী বলেন,'বেগুনের দাম আগের থেকে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগুনের আমদানি কম তাই দাম বৃদ্ধি। আমরা এই বাজার থেকে বেগুন কিনতে সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় আবার বিক্রি করবো।'
বেগুনের হাট পরিচালনা কমিটির মো. আব্বাস আলী বলেন, ‘এই হাটে শুধু বেগুন বিক্রি হয়। প্রতিদিন হাটে ১৩ শ মণ বেগুন বিক্রি হয়ে থাকে। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এই হাটে বেগুন কিনতে আসেন। বর্তমানে ২০-২৫ টাকা কেজিতে বেগুন বিক্রি হচ্ছে।’
মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, 'আগে কিছুটা দাম কম ছিল। শেষের দিকে বেগুনের ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা। এ উপজেলার মাটি পলি দো-আঁশ হওয়ায় এখানে বেগুন চাষ বেশি হয়। আমরাও কৃষকদের বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করি ও বেগুন চাষের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি।'





