Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

শিক্ষক দম্পতির হাতে সহকর্মী লাঞ্ছিত, ভিডিও ভাইরাল

admin • 17 Apr 2026, 10:59 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
শিক্ষক দম্পতির হাতে সহকর্মী লাঞ্ছিত, ভিডিও ভাইরাল

বরগুনায় তিন শিক্ষকের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্যে এক শিক্ষিকাকে মারধরের সেই দৃশ্য ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ, নিন্দা ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে শিক্ষকদের নৈতিক অবক্ষয়ের জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা রাহিমা বেগম— একজন নারী শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে মারধর করছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা তাজেনুর পাথরঘাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও তার শ্যালক মিজানুর রহমান মানিক যৌথভাবে পৌর শহরের হাচন মোল্লা সড়কে একটি ভবন নির্মাণ করেন। তবে ভবনের প্রবেশপথ ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
১৫ এপ্রিল দুপুরে মানিক তার অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গেলে জাহাঙ্গীর আলম বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, মানিককে ভবনের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বাইরে তার স্ত্রী তাজেনুরকে মারধর করা হয়। এ সময় তাজেনুর ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করছিলেন, যা নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ে। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দিয়ে বলেন, “তাজেনুর প্রথমে আমাকে থাপ্পড় দেন। পরে তিনি আমার স্ত্রীর চুল ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। আমি তাদের মারামারি থামাতে গেলে তাজেনুরকে চুল ধরে সরিয়ে দিই। তবে ওই মহিলার গায়ে হাত দেওয়া আমার উচিত হয়নি।”
স্থানীয় শিক্ষক নেতারা বলছেন, শিক্ষকদের এমন আচরণ সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয় এবং শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা সদর থানায় একটি পক্ষ মামলা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।