রাজধানীর ফার্মগেটের বুকজুড়ে একসময় বিস্তৃত ছিল এক প্রাণচঞ্চল সবুজ উদ্যান—শহীদ আনোয়ারা পার্ক। বহু মানুষের শৈশব, বিশ্রাম, হাঁটাহাঁটি ও গল্পগুজবের সাক্ষী ছিল এই স্থানটি।
ঢাকা শহরের এক অবলুপ্তপ্রায় শ্বাসপ্রশ্বাসের খোলা জানালার নাম ছিল এই উদ্যান। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজে উদ্যানটি ব্যবহার শুরু হলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় তার স্বাভাবিক রূপ। যদিও সেই দখল ছিল অস্থায়ী—এমনটাই বলা হয়েছিল।
এরপরও উদ্যানটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে রয়ে গেছে। ২০২৪ সালে দেশে ঘটে গণঅভ্যুত্থান, আসে নতুন সরকার। সেই পরিবর্তনের ঢেউ লাগল প্রশাসনেও। উদ্যান রক্ষায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠলেন আন্দোলনকারীরা, সাধারণ মানুষ।
গত বছরের ডিসেম্বরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও আরও দুই উপদেষ্টা পার্কটি সংস্কার ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। হ্যাঁ, সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রোরেলের সব সরঞ্জাম সরানো হয়েছে, বাউন্ডারি ওয়ালও নির্মাণ হয়েছে।
কিন্তু সেটিই তো শেষ নয়। আমরা এখনো জানি না—এই পার্কটি কবে নাগরিকদের হাতে ফিরে আসবে। এটি কেবল একটি পার্ক নয়—এটি রাজধানীর মানুষের মানসিক প্রশান্তির স্থান। জনসাধারণের স্বাস্থ্য, মানসিক স্বস্তি ও শিশুদের নিরাপদ খেলার জায়গা হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত—এই পার্ককে দ্রুত সংস্কার করে উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা এবং সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করা।
জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি খেলাপ উন্নত রাষ্ট্রীয় মানসিকতার পরিচয় নয়। বরং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ফিরে আসবে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস। তাই দেরি না করে শহীদ আনোয়ারা উদ্যানকে ফিরিয়ে দিন তার নাগরিকদের কাছে—একটি সবুজ, মুক্ত ও সবার জন্য উন্মুক্ত রূপে।





