Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

ল্যাব রিপোর্টে স্বাক্ষর নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা হাইকোর্টে স্থগিত

admin • 03 Mar 2026, 11:00 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
ল্যাব রিপোর্টে স্বাক্ষর নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা হাইকোর্টে স্থগিত

রোগ নির্ণয় পরীক্ষার প্রতিবেদনে (প্যাথলজি রিপোর্টে) শুধু বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধিত এমবিবিএস চিকিৎসকরা স্বাক্ষর করতে পারবেন না সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী তিন মাসের জন্য এই স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসের (বিএসিবি) আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের দুই বিচারক আহমেদ সোহেল ও ফাতেমা আনোয়ার এই আদেশ দেন।

এর আগে ৫ ও ৭ জানুয়ারি (সংশোধিত) নির্দেশনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকদের বিএমডিসির নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নির্দেশনার চরম আপত্তি জানান বায়োকেমিস্টরা। চিকিৎসকদের একক স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হলে দেশে চলমান ল্যাবগুলোতে স্বাক্ষরকারীর তীব্র সংকট দেখা দেবে বলে জানিয়ে আসছিলেন বায়োকেমিস্টরা।

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপে রিপোর্ট সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা বাড়বে, সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। এছাড়াও ডায়াগনস্টিক সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার ল্যাব অচল হয়ে পড়বে। পরে বিএসিবির আহ্বায়ক মো. মাহবুবুর রহমান আদালতে রিট আবেদন করেন। রিটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালককে দায়ী করা হয়েছে।

স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বিএসিবির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছিল, তা আপাতত নিরসন হয়েছে। আমরা আশা করি, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে, যা দেশের ল্যাবরেটরি সেবার মানোন্নয়নে ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সহায়ক হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ২৬ হাজারের মতো প্যাথলজি ল্যাব রয়েছে। যার বড় একটি অংশের বায়োকেমিস্ট্রি ও ইমিউনোলজি বিভাগ নন-মেডিকেল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যমান স্বাস্থ্য আইন, বিশেষ করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ এবং সংশোধিত ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার বাতিল করে শুধু চিকিৎসকদের জন্য তা নির্ধারণ করার কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন প্রতিবেদনের সুপারিশমালায়ও ৭(৪) স্পষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ স্বাক্ষর করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।