রাঙামাটি জেলার দুর্গম ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সশস্ত্র দলের আধিপত্য নির্মূল এবং দুর্গম এলাকার জনসাধারণকে সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে এ অভিযান শুরু হয়।
অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম শৈয়ালপাড়া ও থাচিপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের বিষয়টি জানতে পারেন। এসব পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় জনগণকে দৈনন্দিন পানির প্রয়োজন মেটাতে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৬০০ ফুট নিচে ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।
এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলমান অভিযানের পাশাপাশি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করে। রাঙামাটি রিজিয়নের জুরাছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শৈয়ালপাড়া ও থাচিপাড়ায় পৃথক দুটি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়।
এর ফলে শৈয়ালপাড়ার প্রায় ৬০ জন মানুষ (১৬টি পরিবার) এবং থাচিপাড়ার প্রায় ২০০ জন মানুষ (৭৫টি পরিবার) নিজ নিজ বসতবাড়ির নিকটেই নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছেন। সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্থায়নে এই পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযান যতদিন প্রয়োজন ততদিন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও দুর্ভোগ লাঘবে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও চলমান থাকবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।





