লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আবারো ১০ জুন থেকে ছুটবে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। গেল চার বছরে এই ট্রেনটি আয়ের চেয়ে ব্যয় করেছে দ্বিগুণের বেশি।
পরিসংখ্যান বলছে, লোকসানের পরিমাণ অন্তত কোটি টাকা। আম ব্যবসায়ীরা বলছে, রেল কর্তৃপক্ষ সঠিক পরিকল্পনা করতে পারলে রেল লোকসান নয়, লাভের মুখ দেখতো। যদিও আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে তারা। নেয়া হচ্ছে মহাপরিকল্পনা।
প্রতি বছরের মতো এবারো রহনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী হয়ে ঢাকার উদ্দেশে আম নিয়ে ছুটবে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন।
ম্যাংগো স্পেশাল এই ট্রেনের উদ্দেশ্য, সড়কপথের যানবাহনের তুলনায় কম খরচে আম ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহন করা। এতে করে, চাষি, ব্যবসায়ী এমনকি লাভবান হবে রেলও। কিন্তু ফলাফল বলছে ভিন্ন কথা।
অনুসন্ধান বলছে, ২০২০ সালে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চলাচল করেছে ৪৭ দিন। আম পরিবহন করেছে ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯ কেজি। এতে আয় হয়েছে ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৬ টাকা আর ব্যয় হয়েছে ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
২০২১ সালে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন চলাচল করেছে ৪৯ দিন। আম পরিবহন করেছে ২২ লাখ ৯৯হাজার ৯২০কেজি। এতে আয় হয়েছে ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৯২৮ টাকা অন্যদিকে, ব্যয় হয়েছে ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
২০২২ সালে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন আম পরিবহন করেছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৭৮ কেজি। এতে আয় হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ১৭৪ টাকা আর ব্যয় হয়েছে ১২ লাখ ৪০ টাকা।
২০২৩ সালে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন আম পরিবহন করেছে ১২ লাখ ৭ হাজার কেজি। এতে আয় হয়েছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫০২ টাকা আর ব্যয় হয়েছে ১৯ লাখ ৬২হাজার টাকা ।
গেল চার বছরে রেল আয় করেছে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ১৪০ টাকা আর ব্যয় ১ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার টাকা। দিন শেষে রেলের লোকসান ১ কোটি ৯২ হাজার ৮৬০ টাকা।আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার ঘাটতির কারণে লাভজনক এই সেবা খাতটি লোকসানে পরিণত হচ্ছে। নেই আধুনিক সেবা, পরিকল্পনা নিয়ে সন্তুষ্ঠু নন ব্যবসায়ীরাও।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, সেবা বাড়াতে কুরিয়ার সারর্ভিসের ন্যয়, নেয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা।
এদিকে রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলছেন, ‘কাজ শুরু করলে তাতে ত্রুটি থাকতেই পারে। সেটা কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় মূল লক্ষ।’
গেল চার বছরে ম্যাঙ্গো ট্রেন যেখানে লোকসান গুণেছে কোটি টাকার বেশী সেখানে রাজশাহী অঞ্চলের কুরিয়ার সার্ভিস গুলো আম পরিবহন করে এক বছরেই আয় করে অন্তত ৫ কোটি টাকা।





