নাক উঁচু দেশ যুক্তরাষ্ট্র। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরিন ঘটনায় উনারা নাক গলিয়ে থাকেন৷ যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সেখানেই যুক্তরাষ্ট্রের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, কোথাও তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করে কোথাও বা নিন্দা জ্ঞাপন করে, কোথাও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আবার কোথাও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করে।
ছোটোবেলা যখন এগুলো দেখতাম বা শুনতাম তখন যুক্তরাষ্ট্র কে আমার ভদ্রদেশ,শান্তির দেশ, সভ্য দেশ, কতো ভালোই না মনে হতো।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভুল ভাঙতে থাকে৷ কিন্তু এখন আমি যখন কলামটি লিখছি তখন চরম হতবাক, আশাহত হয়ে লিখছি, আমার হাতে যুগান্তর পত্রিকা৷ ২৯ মার্চ ২০২৩ এর যুগান্তর পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার ২য় কলাম যেখানে চীনের স্টেট কাউন্সিল ইনফরমেশন অফিস এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে৷
সেখানে উল্লেখ্য আছে, "২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে৷ বিশ্বে বন্দুকের মালিকানা, বন্দুককেন্দ্রীক হত্যাকান্ড এবং এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যার ঘটনার দিক দিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষে অবস্থান করছে৷ ২০২২ সালে এসব ঘটনায় ৮০ হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।
এর মধ্যে ৪৩ হাজার ৩৪১ জন নিহত ও ৩৭ হাজার ৭৬৩ জন আহত হন। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০টির বেশি ম্যাস শুটিং এর ঘটনা ঘটেছে" এর অন্যতম প্রধান কারণ বন্ধুকের যত্রতত্র ব্যবহার, বন্ধুকের লাইসেন্স এর সহজলভ্যতা অবাধ ব্যবহার। আপনি কি ভেবে দেখেছেন কি চরম নিরাপত্তাহীনতা, কি জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন! মানুষ কতোটা আতংকে থাকে৷
এটি যদি যুক্তরাষ্ট্র না হয়ে অন্য কোথাও হতো তবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ কি হতে পারতো?
যারা নিজেদের দেশের মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে পারছেনা তারা কিভাবে অন্যদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন দুর করবে? তবে কি মোড়লদের নছিহত করার কেউ নেই??? বিচার এর চিন্তা করা তো বিলাসীতা মাত্র!





