Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

মেলান্দহে দুস্থদের দুম্বার মাংস জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ভাগাভাগি!

admin • 18 Jan 2024, 07:56 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
মেলান্দহে দুস্থদের দুম্বার মাংস জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ভাগাভাগি!

জামালপুরের মেলান্দহে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণের জন্য সৌদি আরব থেকে আসা দুম্বার মাংস উপজেলা পরিষদের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বিতরন করা মাংস ২টি মাদ্রাসায় ২ কার্টুন ছাড়া প্রকৃত গরিব,দুস্থর কারো ঘরে পৌছেনি। কেউ চোখেও দেখেনি। এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মেলান্দহ উপজেলায় দুদিন ধরে বিষয়টি পরিণত হয় ‘টক অব দ্য টাউনে’

 

খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে মেলান্দহ উপজেলার জন্য ৩০ কার্টুন বরাদ্দ ছিলো। প্রতি কার্টুনে ৩ কেজি ওজনের ১০টি প্যাকেট করে ছিলো। সে হিসেবে ৯০০ কেজি মাংস ছিলো। গত মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারী) গোপনে দুম্বার মাংসের কার্টুন উপজেলার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়।

 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্যনুযায়ী গরিব, দুস্থ ও এতিমদের জন্য সৌদ আরব থেকে মেলান্দহ উপজেলার জন্য ৩০ কার্টুন দুম্বার মাংস পাঠানো হলেও উপজেলার তথ্যনুযায়ী , উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী মাঝে  ২ কার্টুন, জামিয়া হুসাইনিয়া আরবিয়া পুরুষ ও মহিলা মাদরাসায় ২ কার্টুন, ১১ টি ইউনিয়নে ১১ কার্টুন, মেলান্দহ পৌরসভা ও হাজরাবাড়ী পৌরসভায় ২ কার্টুন করে বিতরণ করা হয়। উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ১৭ কার্টুন বিতরণের তথ্য থাকলেও বাদবাকি ১৩ কার্টুন কোথায় বিতরণ করা হয়েছে এর কোনো তথ্য নেই।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পরিষদের কয়েকজন সরকারি কর্মচারী বলেন, যা আসার কথা ছিলো তা আসেনি, একটু কম এসেছে। আমরা মিথ্যা বলবো না। ২৪ কার্টুনের মধ্যে ২ কার্টুন উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে। আমাদের কেউ এক প্যাকেট, কেউ অর্ধেক প্যাকেট করে পেয়েছি।

 

চরবানীপাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন ভুট্টো বলেন, ’এক কার্টুন পেয়েছিলাম মেম্বারদের দিয়ে দিয়েছি। আমি এর আশে পাশেই যায়না। মেম্বারই ১২ জন, গ্রাম পুলিশ ১০টা এখানে সাধারণ মানুষরে কেমনে দিবে। মেম্বারদের বলেছি যেমনে ভালো হয় দিয়ে দিও। ’

 

শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এস এম সায়েদুর রহমান বলেন, ’যে পরিমান মাংস, ১ কার্টুনে ১০ টি প্যাকেট পেয়েছিলাম মেম্বারদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

 

উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান সুরুজও এক কার্টুন পেয়ে কাউন্সিলরদের মাঝে ভাগাভাগি করে দেওয়ার কথা জানান। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ কে এম লুৎফর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, ’খুব সম্ভবত ২৪ কার্টুন এসেছিলো। ওইটা বন্ধের দিনে আরছে। তবে যতটুকু জানি ১১টি ইউনিয়নে ১১টি ও দুইটি পৌরসভায় ২ কার্টুন, মেলান্দহ বড় মাদ্রাসায় ১ কার্টুন, গুচ্ছগ্রামে ১ কার্টুন, এছাড়া উপজেলা অফিসের পিয়নেরা যারা আছে ১টি কার্টুন তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। চেয়ারম্যানদের দিয়ে দেওয়া হয়েছিলো এখন তারা কি করেছে সেটা জানিনা। ’

 

জামালপুর সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি অজয় কুমার পাল বলেন, গরীব দুঃস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য আসা মাংস বিতরণে অনিয়ম এটা নিন্দনীয় কাজ। আমরা চাই এটা সঠিকভাবে গরিব অসহায় এবং দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হোক।

 

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, চিঠিতে যে কয়টি কার্টুন বরাদ্দ ছিল (৩০ কার্টুন) সে কয় কার্টুনই দেওয়া হয়েছে। কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।