জামালপুরের ইসলামপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের আলেচনায় সভায় ধর্মপ্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংরক্ষিত আসনে মহিলা সংসদ সদস্য হোসনে আরা এমপি-কে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদের অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ওই সাংসদ ও তার অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামালপুর-শেরপুর আসনের সংরক্ষিত সাংসদ হোসনে আরার অনুসারীরা।
লাঞ্ছিত হওয়া ওই নারী সংসদ সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয় না। আমি দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সিরিজ বোমা হামলা দিবসের আলোচনা সভায় যায়।
সেখানে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত না দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাই। হঠাৎ করেই উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উত্তেজিত হয়ে তর্ক-বির্তক শুরু করেন। তিনি আমাকে মানহানীকর কথা বলেন। এক পর্যায়ে ওই উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমাকে লাঞ্ছিত করেন।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর সেখানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল উপস্থিত হন। এ সময় আমি তাকে বলি, আপনার লোক আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। তখন তিনিও আমার ওপর উত্তেজিত হন। এ পরিস্থিতি দেখে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আমাকে বাসায় নিয়ে আসে। পরে আমি ঘটনাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবগত করেছি। আমি তাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছি।
এ অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, সিরিজ বোমা হামলার দিবসের অনুষ্ঠানে ওই মহিলা এমপি গেলে আনোয়ার তাকে বসতে বলে। এমন সময় সে বলে ওঠে, আমাকে তুমি কেন বসতে বলো, আমাকে কি দাওয়াত দিয়েছো? পরে আনোয়ার বলেছে, আমি দাওয়াত দেওয়ার কে? আমি তো দাওয়াত দেওয়ার কেউ না।
আমি দপ্তর সম্পাদক হলে আমাকে বলতে পারতেন। আমি তো দপ্তর সম্পাদক না। এটা বললে আপনি সভাপতিকে বলতে পারেন। তখন মহিলা এমপি বলেছে, হ্যাঁ, তুই বেশি কথা বলোস। সে এমন ‘সাউডিং’ শুরু করছে সেটা বলার বাইরে। তারপর আনোয়ার তার হাতে থাপ্পর মারে নাই, ধাক্কা দিয়েছে। এ ঘটনায় বরং আমি আনোয়ারকে ধমক দিয়েছি।





