ঢাকার ভোরে গণপরিবহনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাই ছিল তাদের মূল টার্গেট। যাত্রী যেখানে যেতে চান, তারাও সেদিকেই যাবেন—এমন কথা বলে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার নামে তুলে নিত প্রাইভেটকারে।
এরপর সর্বস্ব লুটে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দিত। এমন একটি ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন নুরুল আফছার, মো. আফজাল হোসেন ও মনিরুজ্জামান। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘গত ৩০ নভেম্বর সকালে অলিউর রহমান তুষার এয়ারপোর্টে যেতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে বের হয়ে শেরেবাংলা নগর থানাধীন খেজুর বাগান ক্রসিংয়ে এসে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরই অজ্ঞাতপরিচয় প্রাইভেটকারে ৪ জন এসে তাকে জানান তারাও সেদিকে যাবেন। তুষার সরল বিশ্বাসে প্রাইভেটকারে ওঠেন। কিছুক্ষণ পরই ছিনতাইকারীরা তার চোখে কালো চশমা পরিয়ে হাত বেঁধে ফেলে। তার কাছে থাকা ৫ হাজার ১০০ কাতারি রিয়েল (বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় লাখ টাকা), নগদ ৩০০ টাকা এবং মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়। এরপর তাকে ভয়ভীতি ও মারধর করে সাভারের বলিয়ারপুর যমুনা ন্যাশনাল পার্কের কাছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ফেলে দিয়ে আসামিরা চলে যায়।’
উপপুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এই ঘটনায় তুষার শেরেবাংলা নগর থানায় গত ৬ ডিসেম্বর মামলা করেন। এর পরপরই পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ভিকটিমকে আসামিদের বর্ণনা ও গাড়ির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তিনি আসামি ছাড়া গাড়ির বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এরপর ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে শুরু হয় বিশ্লেষণ। দেখা যায়, আসামির দেওয়া বর্ণনার একটি গাড়ি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নান্দনিক হাউজিং নামক একটি আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে। গাড়িটিকে শনাক্ত করে উদ্ধার করা হয় ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার নুরুল আফছার বিভিন্ন অপকর্মের করে নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী পরিচয়বাহী আইডি কার্ড, স্টিকার ব্যবহার করত। প্রাথমিকভাবে মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা এবং মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১০২টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।





