Tuesday, 3 November 2026
শিরোনাম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি নিজের মোবাইল সিম ছাড়া এনআইডি সংশোধন নয় দেশের বাজারে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি-অটোগ্যাস,কোন সিলিন্ডার কত? করিমগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ৩ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করে তাক লাগিয়ে দিল শিশু ফারিহ ভালোবেসে বিয়ে, মাদক ছাড়তে বলায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী বিএসএফ সদস্যদের রাস্তায় ফেলে পেটাল গ্রামবাসী, আহত ৩ সেই শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটালেন আন্দোলনকারীরা ইসলামি বক্তা ডা.জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া
এক্সক্লসিভ

ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার সরকারি চাকরি

• • পঠিত 15 বার
শেয়ার করুন:
ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার সরকারি চাকরি

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর হলেও, নিয়োগের সময় ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। জালিয়াতির মাধ্যমে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরি নেওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মো. আতিকুজ্জামান।

 

সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বর্তমানে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কর্মরত। অভিযোগ, জেলা কোটার সুবিধা পেতে তিনি ২০১৩ সালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগের সময় ভিন্ন জেলার ঠিকানা ব্যবহার করেন। অভিযুক্ত আতিকুজ্জামান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আশরাফ হোসাইনের ছেলে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, আতিকুজ্জামান একসময় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা মো. আশরাফ হোসাইন স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন।

   

এছাড়া আতিকুজ্জামানের দুলাভাই মো. লেমন বর্তমানে পাররামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরির আবেদন ও নিয়োগের সময় আতিকুজ্জামান নিজের ঠিকানা হিসেবে ঢাকার দক্ষিণখান থানার মোল্লারটেক এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করেন।

 

নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে তাঁর ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে- বাড়ি নম্বর ৮৫, মোল্লারটেক, ডাকঘর আশকোনা, থানা দক্ষিণখান, জেলা ঢাকা। তবে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে- গ্রাম তারাটিয়া, ডাকঘর তারাটিয়া বাজার, উপজেলা দেওয়ানগঞ্জ, জেলা জামালপুর। তৎকালীন সময়ে জামালপুর জেলায় নিয়োগসংক্রান্ত কোটার সীমাবদ্ধতা থাকায় ঢাকার কোটা ব্যবহার করতে তিনি এ পদ্ধতি অবলম্বন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণকারী আতিকুজ্জামান তারাটিয়া আলহাজ লাল মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এসএসসি এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০০৭ সালে চার বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।

 

২০১৩ সালে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে মেলান্দহ উপজেলায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আতিকুজ্জামান বলেন, আমি একসময় ঢাকায় থাকতাম, তাই ওই ঠিকানা ব্যবহার করেছি।”

 

তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর থাকা সত্ত্বেও নিয়োগে ঢাকার ঠিকানা ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি ছাত্রলীগ করেছি- এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তবে পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

এ বিষয়ে জামালপুর জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসূফ আলী বলেন, সরকারি চাকরি পেতে ভুয়া তথ্য বা মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এটি চাকরিচ্যুতিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারাসহ প্রযোজ্য আইনে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে ফৌজদারি মামলারও সুযোগ রয়েছে।

 

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে তথ্য গোপন বা অনিয়মের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।