Wednesday, 4 November 2026
শিরোনাম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি নিজের মোবাইল সিম ছাড়া এনআইডি সংশোধন নয় দেশের বাজারে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি-অটোগ্যাস,কোন সিলিন্ডার কত? করিমগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ৩ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করে তাক লাগিয়ে দিল শিশু ফারিহ ভালোবেসে বিয়ে, মাদক ছাড়তে বলায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী বিএসএফ সদস্যদের রাস্তায় ফেলে পেটাল গ্রামবাসী, আহত ৩ সেই শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটালেন আন্দোলনকারীরা ইসলামি বক্তা ডা.জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া
এক্সক্লসিভ

বেতন ছাড়া স্টেশন পরিষ্কার করা বুবির কবর জিয়ারত করলেন ১৩ স্বজন

• • পঠিত 14 বার
শেয়ার করুন:
বেতন ছাড়া স্টেশন পরিষ্কার করা বুবির কবর জিয়ারত করলেন ১৩ স্বজন

নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে বিনা বেতনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা বাক্প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা বুবি বেগম ওরফে ওয়াহিদা বেগমের (৭০) কবর জিয়ারত করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে স্টেশনসংলগ্ন নুরপুর কবরস্থানে তাঁর কবর জিয়ারতের সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিখোঁজ এই স্বজনের সন্ধান পেলেন তাঁরা, তবে জীবিত নয়, পেলেন একটি নিথর কবর। এদিন ভোরে বগুড়ার গাবতলী থেকে মাইক্রোবাসে করে রওনা দিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় মেথিকান্দা স্টেশনে এসে পৌঁছান ওয়াহিদার তিন বাষ্প্রতিবন্ধী ভাইবোনসহ পরিবারের মোট ১৩ জন সদস্য।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঘোন সাগাটিয়া গ্রামের মেয়ে ওয়াহিদা বেগম ২৫ বছর আগে পরিবারের সাথে অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন। স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর থেকেই তিনি বিপর্যস্ত ছিলেন। বাড়ি ছেড়ে তিনি মেথিকান্দা স্টেশনে আশ্রয় নেন। গত দুই যুগ ধরে বিনা বেতনে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও শৌচাগার পরিষ্কার করতেন তিনি। স্থানীয়রা ভালোবেসে তাঁকে যে সামান্য টাকা দিতেন, তা তিনি সযতনে জমিয়ে রাখতেন।

এই জমানো টাকাই তাঁর কাল হলো। গত ৪ জুলাই রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর কক্ষে ঢুকে টাকা ছিনিয়ে নিতে তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করে। তিন দিন পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ফেসবুকের মাধ্যমে খবর পেয়ে ছুটে আসা পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াহিদার বাবা-মাসহ পরিবারের মোট ২০ জন সদস্য বাক্প্রতিবন্ধী। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তাঁরা একসময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

 

ওয়াহিদার ছোট বোনের জামাতা সৈকত ইসলাম জানান, মৃত্যুর পর টাকার লোভে তাঁরা ছুটে আসেননি। ওয়াহিদার জমানো কোনো টাকা থাকলে তা যেন স্থানীয় এতিমখানা বা মসজিদে দান করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর অন্তত তাঁর কবরটি দেখতে পেরেছেন, এতেই তাঁদের পরম শান্তি।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।