বাশ ও কাঠের তৈরি,মূল ঘরের লাগোয়া করে খোলা ও ছাদবিহীন অংশকে বলা হয় মাচাং ঘর। পাহাড়ের ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীই এ ধরনের ঘর তৈরি করে থাকে।
তিন পার্বত্য জেলার এলাকায় পাহাড়িদের কাছে এমন আদলে ঘরের নাম মাচাং ঘর।ফলে বংশ পরম্পরায় এটি হয়ে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘর। কেবল পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাচাং ঘর দেখা যায় এখন।
ফলে এই মাচাং ঘর এক সময় বিলুপ্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। আরও জানা গেছে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং পাহাড় থেকে বাঁশ ও ছন হারিয়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানে বান্দরবানের বিভিন্নস্থানে বাঁশের, ছনের তৈরি ঘরের সংখ্যা কমেই যাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছা ইট পাথরের পাকাবাড়ি।
মাচাংগুলো সাধারণত মাটি থেকে ৫ থেকে ৬ ফুট উঁচু করে তৈরি হয়। আর মাচাং তৈরির একমাত্র উপকরণ ছিল পাহাড়ি ছন ও বাঁশ। একসময় বান্দরবানে ব্যাপক ছনের কদর ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তন ও জুম চাষের কারণে হুমকিতে পড়েছে পাহাড়ি ছনের ঘর।
বন জঙ্গলের হিংস্র বণ্যপ্রাণী থেকে বাঁচার জন্য একসময় পাহাড়ি মানুষদের বেছে নিতে হয়েছিল নানা কৌশল। বসতবাড়ি নির্মাণ ও আত্মরক্ষার তাগিদে মাটি থেকে বেশ উঁচু করে বানাতে হতো এই ঘর। নিচে থাকত গাছ ও বাঁশের খুঁটি।
বিশেষ করে গ্রামে বসবাসকারী জুমচাষিরা সেখানে কাপড় এবং ধান শুকায়। আর রাত হলে সেখানে বসে রূপকথার কাহিনি ও খোশ গল্পে মেতে ওঠে তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, সেই মাচাং ঘর এখন বিলুপ্তির পথে। একদিকে বন উজাড়ের কারণে আগের মতো গাছ-বাঁশ পাওয়া যায় না, অন্যদিকে কিছু সচ্ছল ব্যক্তিও মাচাং ঘরের বদলে পাকা ঘরবাড়ি তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে অনেকের আশঙ্কা, একসময় দুর্গম এলাকা ছাড়া আর দেখতে পাওয়া যাবে না এই মাচাং ঘর।
তবে বান্দরবান জেলায় ম্রো ও খুমী জনগোষ্ঠীর নব্বই ভাগ মানুষ এখনও মাচাং ঘর তৈরি করে থাকেন। এছাড়া ম্রো ও খুমী সমাজের বয়স্ক ব্যক্তিরা রাতে মাচাংয়ে বসে এখনও নাতি-নাতনিদের বিভিন্ন রূপকথার গুল্প শোনান।
মাচাং ঘর সংরক্ষণ করা গেলে পাহাড়ের ঐতিহ্য যেমন সংরক্ষণ হবে তেমনি বিদেশী পর্যটক আকর্ষনেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।





