Tuesday, 3 November 2026
শিরোনাম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি নিজের মোবাইল সিম ছাড়া এনআইডি সংশোধন নয় দেশের বাজারে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি-অটোগ্যাস,কোন সিলিন্ডার কত? করিমগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ৩ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করে তাক লাগিয়ে দিল শিশু ফারিহ ভালোবেসে বিয়ে, মাদক ছাড়তে বলায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী বিএসএফ সদস্যদের রাস্তায় ফেলে পেটাল গ্রামবাসী, আহত ৩ সেই শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটালেন আন্দোলনকারীরা ইসলামি বক্তা ডা.জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া
এক্সক্লসিভ

বিচারকের সঙ্গে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ, কুষ্টিয়ায় আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত

• • পঠিত 13 বার
শেয়ার করুন:
বিচারকের সঙ্গে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ, কুষ্টিয়ায় আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত

আদালতে বিচারকের সঙ্গে ‘পেশাগত অসদাচরণ ও শিষ্টাচার বিধি লংঘনের’ অভিযোগে একজন আইনজীবীর সদস্যপদ স্থগিত করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। কারণ দর্শানোর নোটিসের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইনজীবী পি এম সিরাজুল ইসলামের সদস্যপদ ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

 

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম শাতিল মাহমুদ বলেন, “৭ জুলাই ওই আইনজীবী একটি আদালতে বিচারকের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিচারক দম্পতির নামে অপপ্রচার চালান।”

 

এসব ঘটনায় আইনজীবী সিরাজকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয় জানিয়ে শাতিল মাহমুদ বলেন, “সবকিছু মিলিয়ে জুরি বোর্ড বৃহস্পতিবার সদস্যপদ স্থগিত করে আইনজীবীকে চূড়ান্ত নোটিস দিয়েছে।” নোটিসের অনুলিপি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

 

সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আইনজীবীর দেওয়া ব্যাখ্যা সমিতির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি; বরং সেখানেও তার ঔদ্ধত্যের ইঙ্গিত রয়েছে, যা পেশাদারি নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

 

আইনজীবী সিরাজকে দেওয়া চূড়ান্ত নোটিসে বলা হয়েছে, “বিচারিক আদালতের সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার বিষয় বিবেচনায় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা একজন আইনজীবীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। কোনো বিচারিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তিসংগত কোনো অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার প্রতিকার পাওয়ার বিধিসম্মত নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আপনি সেই পথে যাননি।”

 

কী ঘটেছিল জানতে চাইলে কুষ্টিয়া আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) খোন্দকার নাজমুল হক বলেন, ২০২০ সালের একটি মাদক মামলায় এক আসামি ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। এরপর থেকে সাতটি শুনানির তারিখে আসামি অনুপস্থিত ছিলেন।

 

২০২৪ সালের ২১ মে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। আইন অনুযায়ী, আসামির আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করার কথা। কিন্তু আসামির আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জামিন না নিয়ে সরাসরি মামলাটির সাক্ষ্য শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে উপস্থাপন করেন।

 

এপিপি বলেন, “এ সময় আদালত নথি পর্যালোচনা করে আসামিকে আত্মসমর্পণ করানোর জন্য আইনজীবীকে পরামর্শ দেন। তাতেই ক্ষুব্ধ হন আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, তার আসামি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত বা পলাতক নন।”

 

খোন্দকার নাজমুল হক বলেন, “অথচ মামলার নথিতে আছে প্রায় আড়াই বছর ধরে আসামি পলাতক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের সঙ্গে সিরাজুল ইসলাম চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং কটূক্তি করতে থাকেন।

 

“আদালতের সঙ্গে তিনি এটা করতে পারেন না। তাছাড়া আদালতের অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াটা জনসম্মুখে আদালতকে হেয় করার শামিল। এটা আমাদের কারো জন্যই শুভ নয়।”

 

অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে আইনজীবী পি এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, “একজন আইনজীবী এবং সাংবাদিক হিসেবে জজ সাহেবের বিরুদ্ধে নিউজ করেছিলাম। সে বিষয়ে ওই জজ সাহেব সমিতির উপর দায়িত্ব দেন বিষয়টি সুরাহার জন্য। সমিতির নেতারা যেহেতু ওই সব শিবঠাকুরদের কাছ থেকে নানাভাবে সুবিধা নিয়ে থাকেন, সে কারণে উনারা জজ সাহেবদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।”

 

তিনি বলেন, “আমার দেওয়া জবাব তাদের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি বলে সমিতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় আমি গ্রেপ্তারও হতে পারি বা আরও কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে পারি। সেগুলি আমি মাথায় নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি।”

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।