জীবিকার তাগিদে যে বয়সে শিশুর হাতে থাকার কথা বই-খাতা। বন্ধুদের সঙ্গে কথা ছিল স্কুলে যাওয়ার। কিন্তু বাবার মৃত্যু আর পরিবারের অভাব তাকে নামিয়ে আনে জীবিকার লড়াইয়ে।
হাসানের শৈশব কাটছিল ঢাকার রাস্তায় বাদাম বিক্রি করে। এমনই এক কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ালেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। উদ্যোগ নিলেন তার হাতে বই-খাতা তুলে দেওয়ার। তার স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থাও করলেন। শুধু তা-ই নয়, হাসানের পরিবারটির পাশেও দাঁড়ালেন আর্থিক সহায়তা নিয়ে।
হাসানের বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর তিন ভাই, এক বোন ও মাকে নিয়ে রাজধানীর বারিধারার একটি ভাড়া বাসায় থাকতো সে। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারে উপার্জনের লোকের সংকট দেখা দিলে ছোট বয়সেই বাদাম বিক্রি শুরু করে হাসান। পরিবারের খরচে সহায়তা করতেই তাকে এ কাজে নামতে হয়।
শিশুটির এমন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান ফরিদা খানম। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসময় পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
হাসানের পড়াশোনা শুরুর সুযোগ তৈরি করতে তাকে স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নগদ অর্থসহায়তাও দেন তিনি।
ফরিদা খানম বলেন, শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। দারিদ্র্য বা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিশু যেন এই অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। শিশুর হাতে শ্রমের বোঝার বদলে বই-খাতা তুলে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসানের মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুর পাশে দাঁড়ানো কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তার বিষয় নয়, তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলারও উদ্যোগ। প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ শৈশব পায়, নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারে এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায়, সেজন্য সরকার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগে হাসান ও তার পরিবারের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যে শিশুর দিন কাটত বাদাম বিক্রি করে, এবার তার সামনে খুলছে স্কুলে যাওয়ার পথ। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লড়াইও চলবে হাসানের পরিবারের।





