ইফতার বিতরণ ঘিরে যখন চারদিকে মানবিকতার চিত্র, ঠিক তখনই ঘটেছিল এক দুঃখজনক ঘটনা। কুষ্টিয়া শহরে বিনামূল্যে বিতরণকৃত ইফতার নিতে গিয়ে ঋণ নিয়ে কেনা নিজের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম রিকশাটি হারিয়েছিলেন জামিরুল ইসলাম নামে এক বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জামিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে জমানো টাকা এবং ঋণ নিয়ে রিকশা কিনে দেয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিজের পরিশ্রমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন জামিরুল। রিকশাটি ছিল তার একমাত্র আয়ের উৎস।
জামিরুলের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে কুষ্টিয়ার মানবিক জেলা প্রশাসক বাড়িয়ে দেন মানবতার হাত। তিনি বাক ও শ্রাবণ প্রতিবন্ধী জামিরুলের পাশে দাঁড়ান। কিনে দেন একটি নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশা। এতে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতিবন্ধী জামিরুল ইসলাম।
প্রতিবন্ধী জামিরুলের স্ত্রী বলেন, তিন মাস আগে সমিতি থেকে লোন তুলে একটি নতুন রিকশা কিনে দেই। কিন্তু গতকাল শনিবার ইফতার নিতে যেয়ে রিকশাটি হারিয়ে যায়। সবাই দিশেহারা হয়ে পড়ি। একদিকে লোন পরিশোধের চিন্তা, আরেকদিকে রিকশার চিন্তা ও উপার্জনের চিন্তা। চারিদিকের চিন্তা মাথায় ভর করেছিল।
তিনি বলেন, যখন জানতে পারলাম ডিসি স্যার আমাদের রিকশা কিনে দিচ্ছেন, আমরা কিছুটা হলেও শান্তি পাই। তবে যখন যতক্ষণ না হাতে পারছিলাম ততক্ষণ পুরোপুরি শান্ত হতে পারছিলাম না। আজকে ডিসি স্যার আমাদের নতুন রিকশা দিলেন। ডিসি স্যার অনেক ভালো মানুষ।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, আমি সব সময় অসহায়দের পাশেই আছি। জামিরুল বাক এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তার রিকশা হারানোর খবর জানার পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭৪ হাজার টাকা দিয়ে একটি রিকশা আজ কিনে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা হলে আমরা সব সময় পাশে থাকব।
তিনি আরও বলেন, এখানে একটা অমানবিক কাজ হয়েছে তার রিকশাটা চুরি করে নিয়ে গেছে। কিন্তু ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা যেন না হয় সেজন্য আমি আজকে এসপি মহোদয়কে বলে দিয়েছি। আমি আগামীকাল চিঠি ইস্যু করব।





