বর্তমান সরকারের সময়ে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও রেল ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত ৯৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৮৯টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। এ সময়ে মোট ৮৭৩ কিমি নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি রোধে চালুকরা হয়েছে রেলসেবা অ্যাপ। যাত্রীদের টিকিট সহজলভ্য করার জন্য চালু করা হয়েছে ই-টিকিটিং সার্ভিস ।
এ রমাধ্যমে রেলযাত্রীদের যেমন দুভোর্গ কমেছে রেড়েছে রেলের আয়। রেল ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল ও আধুনিকায়ন করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মানণীয় মন্ত্রী পঞ্চগড় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি।
মুজিব শতবর্ষে রেলস্টেশন সংস্কার ও আধুনিকায়নঃ মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে ৫২টি স্টেশন সংস্কার ও আধুনিকায়ন হয়েছে। এর মধ্য পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশি বিভাগীয় রেলওয়ের পাকশি বিভাগের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি রেলস্টেশনে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে স্টেশন গুলো হলো -টাঙ্গাইল,জামতৈল, উল্লাপাড়া, বড়াল ব্রীজ, চাটমোহর,নাটোর, সান্তাহার, রংপুর, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও,দিনাজপুর, ডোমার, বিরামপুর, জয়পুরহাট,লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বোনারপাড়া, বগুড়া,খুলনা,যশোহর, পোড়াদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ি। এছাড়া রেল যাত্রীগণের আরামদায়ক রেলসেবা নিশ্চিতকরণে এবং বিদ্যমান রেলসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
রেলস্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন: রেলপথ আরও নিরাপদ করতে দেশের ১৩৪টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং ৯টি সিগন্যালিং ব্যবস্থার পুনর্বাসন করা হয়েছে। এ জন্য ৬৪৮ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ২০২৩ সালের ২০ জুন শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক-এর সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর সেকশনের স্টেশনসমূহের সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থার প্রতিস্থাপন ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
এর ফলে নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলার বাগাতিপাড়া, নাটোর, আত্রাই, রানীনগর, আদমদিঘী, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, হাকিমপুর, বিরামপুর, ফুলবাড়ি এবং পার্বতীপুর উপজেলার রেলপথ আরও নিরাপদ হবে।
ট্রেন চলাচলে নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা, ট্রেন চলাচলের গতি বৃদ্ধি, সেকশনের ট্রেন চলাচলের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি, অপারেশনাল সুবিধা বৃদ্ধি ও পরিশেষে আব্দুলপুর-পার্বতীপুরে সেকশন সমূহে ট্রেনের ভ্রমণসময় কমানো হবে।
সিগন্যালিং সিস্টেম আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেকশনের ট্রেন চলাচলের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করা, গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিং গেট এলাকায় সড়ক ও রেলওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সেকশনটিকে আঞ্চলিক ট্রেন যোগাযোগের জন্য শক্তিশালীকরণ এবং ভারত ও বাংলাদেশের রেল নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে ভবিষ্যতে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ট্রান্স-এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। সিগন্যালিং যন্ত্রাংশ, ইন্সটেশন, পূর্ত এবং পি-ওয়ে, ইলেকট্রিক্যাল কাজ এবং অন্যান্য ফ্যাসিলিটি পরামর্শক সেবা দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সুত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ঈশ্বরদী-পার্বতীপুর সেকশনে দ্রুতগতিতে নিরাপদে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা এবং নতুন ট্রেন পরিচালনার মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ সব জেলাসমূহের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন হবে বিধায় প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
"রেলসেবা" অ্যাপ চালু : রেল যাত্রীদের দুভোর্গ কমাতে ও যাত্রীগণ ঘরে বসেই দ্রুত কাঙ্কিত ট্রেন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন সেই লক্ষে ২০২২ সালের ২২ জুন বুধবার রেল ভবনে "রেলসেবা" নামে মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে সরকার। রেল ভবনে এ অ্যাপের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন,এমপি।
রেলসেবা অ্যাপ চালুর মাধ্যমে রেল যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেট ওয়েবসাইটের eticket.railway.gov.bd পাশাপাশি ‘রেলসেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে ট্রেন টিকিট কাটতে পারছেন। এর মাধ্যমে টিকিটের কালোবাজারি বন্ধ হয়েছে। ফলে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং পার্টনার সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি ই-অ্যাপ তৈরি ও ব্যবস্থাপনার কাজ করেছে।
রেলষ্টেশনে বিনামূল্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থা: প্রচন্ড গরমে যখন দিশেহারা মানুষ যাত্রা পথে পিপাসায় কাতর শিশু থেকে শুরু করে বয় বয়স্ক নারী পুরুষ, ঠিক তখনই তাদের কথা চিন্তা করে দেশের প্রতিটা রেলষ্টেশনে রেল যাত্রীগণের সুবিধার্থে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এর ফলে আপেক্ষমান যাত্রীগণ বিনামূল্যে সুপেয় পানি পান করতে পারছেন।
চিলাহাটি এক্সপ্রেস উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)
আওয়ামীলীগের সময়ে রেলের উন্নয়ন : আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত মোট ৮৬টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ৩টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, অর্থাৎ মোট ৩৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী এ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন ।
৭ জানুয়ারী ২০২০ মঙ্গলবার ঢাকার রেলভবন সম্মেলন কক্ষে (যমুনা) সরকারের ১ বছর পূর্তিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অর্জন ও আগামীর লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, রেলের মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে মোট প্রায় ২ হাজার ৭১৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মিত হবে।
প্রস্তাবিত ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৭৯৮ দশমিক ০৯ কিলোমিটার নতুন রেললাইন এবং বিদ্যমান রেললাইনের সমান্তরালে ৯৭৭ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়া ৮৪৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসন, ৯টি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু নির্মাণ, লেভেল ক্রসিং গেটসহ অন্যান্য অবকাঠামোর মানোন্নয়ন ও আইসিডি নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে ।
রেল ওয়ে সুত্র হতে জানা যায়, এর আওতায় ওয়ার্কশপ নির্মাণ, ১৬০টি নতুন লোকোমোটিভ, ১৭০৪টি যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ইক্যুইপমেন্টস সংগ্রহ, ২২২টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থার মানোন্নয়ন করা হবে। এছাড়া হালনাগাদকৃত মাস্টারপ্ল্যানে ৬টি পর্যায়ে (২০১৬-২০৪৫) বাস্তবায়নের জন্য ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে, যা বাস্তবায়িত হলে মোট প্রায় ২৭১৫ দশমিক ৫৮ কিমি নতুন রেলপথ নির্মিত হবে ।
রেলমন্ত্রী জানান, ২০০৯ হতে এ পর্যন্ত ৭৭টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। ফলে রেলপথ সম্প্রসারিত হয়েছে এবং যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেসব প্রকল্প সমাপ্ত হলে মোট প্রায় ১ হাজার ১৬২ দশমিক ৯৭ কিমি রেললাইন (ট্র্যাক কিমি) নতুন নির্মিত হবে। ১৪০টি লোকোমোটিভ, ৭০০টি যাত্রীবাহী ক্যারেজ, ১০০০টি ওয়াগন ও ১২৫টি লাগেজ ভ্যান রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত ৪০১ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে।
পরবর্তী পর্ব : আসছে





