জামালপুরের মেলান্দহে আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলাকে কেন্দ্র দু-পক্ষের সংঘর্ষে ৫ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় বিচারের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২-টা পর্যন্ত মালঞ্চ আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিভাবক ও ছাত্র ছাত্রীদের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে সড়কে গাছ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে এ অবরোধ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে।
প্রায় তিন-ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে তিন কিলোমিটার জায়গা জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে মেলান্দহ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিচার পাইয়া দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ নেয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সাধুপুর হূমায়ন কবির টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ও মালঞ্চ গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা চলছিল। খেলার নির্ধারিত সময় ৪০ মিনিট শেষ হলেও দুই পক্ষের কেউ গোল করতে পারেনি। পরে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হলেও খেলা ড্র হয়। তখন জয়-পরাজয় নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকার আয়োজন করেন খেলার পরিচালক। টাইব্রেকারে পাঁচটি করে শট করে উভয় পক্ষের খেলোয়াড়। সেখানে পাঁচটি করে গোল করে উভয় পক্ষই।
পরে সাধুপুর হুমায়ুন কবির টেকনিক্যালের খেলোয়াড় ষষ্ঠ শট করলে গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে গোলরক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির গায়ে লেগে বলটি ফিরে আসে। এ সময় পাশেই দাঁড়িয়ে একজন খেলোয়াড় পুনরায় শট করলে বল গোলপোস্টের ভেতরে চলে যায়। এতে মালঞ্চ গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গোল হয়নি বলে চিৎকার করে ওঠে। অন্যদিকে সাধুপুর হুমায়ুন কবির টেকনিক্যালের শিক্ষার্থীরা গোল হয়েছে বলে দাবি করে।
পরে খেলা পরিচালক ইব্রাহিম হোসেন পুনরায় সাধুপুর হুমায়ুন কবির টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠতম শট করার আহ্বান জানান। এতে মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়েরা রাজি না হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়।
মালঞ্চ এম এ গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল মেলান্দহ ও উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আন্তস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে আমার স্কুল ও সাধুপুর টেকনিক্যাল স্কুলের মধ্যে খেলা চলছিল। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার কারণে ৪০ মিনিট খেলা হয়। ৪০ মিনিট খেলায় কোনো পক্ষেই গোল হয়নি, পরবর্তীতে টাইব্রেকার হয়। এতে দুই পক্ষই সমান-সমান গোল করে। এরই মধ্যে মেলান্দহ উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধুপুর টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা মিলে আমার বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে মারধর করে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে উমির উদ্দিনের শিক্ষার্থীরা।’
অভিযোগের বিষয়ে সাধুপুর হুমায়ুন কবির টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিল ঘটনাস্থলে।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আজ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে সড়ক অবরোধ করেছিল। আমি ও ইউএনও স্যারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। এই ঘটনা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে এখন উপজেলায় আন্তস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধ করা হয়েছে।’
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সকলের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অবরোধ থেকে সরিয়ে ক্লাসে ফিরেয়ে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বসে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা হবে।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সেলিম মিঞা বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। তাদের আশ্বস্ত করেছি যে দ্রুত সময়ের মধ্যে এর একটি সুস্থ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।





