বাগেরহাটের ফকিরহাটে প্রেমিকের আত্মহননের বছর না ঘুরতেই তার পথ অনুসরণ করে নিজেও না ফেরার দেশে চলে গেলেন এক কলেজছাত্রী। শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১০টার দিকে নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের কাথলী গ্রামে নিজ বাড়িতে সিলিং ফ্যানের হুকের ওড়না পেঁচিয়ে তাকে ফাঁসে ঝুলতে দেখেন পরিবারের লোকজন।
এরপর স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, নিহত ওই কলেজছাত্রী সিঁথি ব্যাপারী (১৯) কাথলী গ্রামের কৃষক অভিলাস ব্যাপারীর মেয়ে ও ফকিরহাট সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী ছিলেন।
সিঁথির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিঁথির সাথে তাদের প্রতিবেশী এক ব্রাক্ষ্মণ সম্প্রদায়ের ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক পারিবারিকভাবে মেনে না নেয়ায় বছরখানেক আগে ছেলেটি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে সিঁথি মানসিকভাবে খুব ভেঙ্গে পড়ে।
সিঁথির কাকা শেখর ব্যাপারী জানান, সকালে তারা বাড়ির সবাই নানা কাজে ঘরের বাইরে ছিলেন। বেলা ১০টার দিকে ঘরে ঢুকে ফ্যানের হুকের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসে ঝুলন্ত সিঁথিকে দেখতে পান। এরপর দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করে নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মুক্তি জানান, সিঁথি ভালবেসে তার প্রতিবেশী প্রেমিককে বিয়ে করে সংসার গড়তে চেয়েছিলো। কিন্তু প্রেমিক উচ্চবর্ণের হওয়ায় তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। তাই প্রায় এক বছর আগে সিঁথির প্রেমিক আত্মহত্যা করেন। সিঁথিও তার প্রেমিকের পথ ধরে চলে গেলো না ফেরার দেশে।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জয়ান্তি পণ্ডিত জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই ওই কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. আলীমুজ্জামান জানান, প্রেমিকের আত্মহত্যার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং সেই হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পরিবার। খবর পেয়ে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেছে।
কলেজছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ওসি জানান।





