নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে আহত মো. হাবিব মিয়া (৪৩) নামে ব্যক্তির চিকিৎসাধীন মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গহরদী (নয়াপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিব মিয়া ওই এলাকার মৃত হাকিম মিয়ার ছেলে।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৩) বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ একই পরিবারের চারজনের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- হান্নান মিয়া কাজী (৫৫), তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৫০), তাদের দুই ছেলে সোহাগ (৩০) ও সুমন (২০)।
এর আগেও ওই বসত বাড়ির সীমানা নিয়ে বাদীর প্রথম স্বামীকেও অভিযুক্তরা একইভাবে হত্যা করে। ওই সময় স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসা হওয়ায় থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। এরপর তিনি নিহত মো. বাতেন মিয়ার ছোট ভাই দেবর মো. হাবিব মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বসত বাড়ির জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী হান্নান মিয়া কাজী ও তার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে মো. হাবিব মিয়া ও তার পরিবারের। এ নিয়ে প্রায় সময়ই হান্নান কাজী ও তার পরিবারের সদস্যরা গায়ে পড়ে নিহতের সঙ্গে ঝগড়া করত।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে বাড়ির ময়লা পানি নিষ্কাশন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হান্নান কাজী ও তার পরিবার হাবিব মিয়ার বাড়ির সামনে এসে তার সঙ্গে আবারও ঝগড়া-বিবাদ শুরু করেন। এক পর্যায়ে হান্নান মিয়া কাজীর হুকুমে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে মিলে হাবিব মিয়াকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন।
এসময় হান্নান মিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম তার হাতে থাকা একটি বড় লোহার ‘চামচ’ দিয়ে হাবিব মিয়ার মাথায় আঘাত করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা হাবিব মিয়াকে আহত অবস্থায় আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল তিনটার দিকে হাবিব মিয়ার মৃত্যু হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ওই ঘটনার আপোষের চেষ্টা করাসহ মামলা মোকদ্দমা না করার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার মামলার বলেন, অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





