তুহিন আক্তার। পলিথিন কারখানায় কাজ করে তিন সন্তান নিয়ে কোনো রকমে চলছিল তার সংসার। যখন তিনি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন পারিবারিক কলহের জেরে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। পরে তার একটি পুত্র সন্তান হয়। ছেলের জন্মের তিন দিন পর শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) তাকে পাঁচ হাজার টাকায় তিনি বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিন দিনের শিশু সন্তান বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তুহিন আক্তার বলেন, ‘সন্তান বেচে দিছি কইছে কে? আমার জামাই আমারে ছাইড়া চইলা গেছে। বাচ্চা পালার টাকাপয়সা নাই। হের লাইগা বাচ্চাটা আমি তাদের দিয়া দিছি। হেরা খুশি হইয়া আমারে একটা থ্রি-পিচ ও তিন হাজার টাকা দিছে।’
জানা যায়, তুহিন আক্তার দিনাজপুরের বিরল উপজেলার জোসরাল গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী। স্বামী তাকে ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি গাজীপুরের সফিপুর পূর্বপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। এখন তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়াচালা এলাকায় নিজের গ্রামের বাড়িতে আছেন।
গাজীপুরের সফিপুর পূর্বপাড়া এলাকার যেখানে তুহিন আক্তার থাকতেন সেখানকার স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তুহিন একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। তাকে লালন–পালন করার সামর্থ্য তার নেই। পরে নবজাতককে দত্তক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি ও তার মা খাদিজা বেগম। কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়াচালা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের স্ত্রী নাসিমা বেগমের কাছে নবজাতককে দেন তারা। পাঁচ হাজার টাকায় তারা নবজাতককে বিক্রি করেছেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
তুহিনের মা খাদিজা আক্তার বলেন, তার মেয়ের আগে তিন সন্তান আছে। জামাতা আরেক বিয়ে করে চলে যাওয়ায় তার মেয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারে না। তাই তার মেয় বাচ্চাকে দত্তক দিয়েছেন।
কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়াচালা এলাকার স্থানীয়রা জানান, নাসিমা বেগমের একটি মেয়ে আছে। তিনি পাঁচ হাজার টাকায় ছেলে নবজাতকটিকে কিনে নেন।





